এই সময়, হলদিয়া: শিল্পাঞ্চলে এ বার সে ভাবে পালন হলো না মে দিবস। বিশেষ করে হলদিয়ায় তৃণমূল সমর্থিত আইএনটিটিইউসি-র শ্রমিকদের মধ্যেও তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। শুক্রবার হলদিয়ার কারখানাগুলিতেও অন্য বারের মতো কাউকে মে দিবস পালন করতে দেখা যায়নি। তবে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ কারখানার গেটে পতাকা উত্তোলন করেছে। ভোটের ফল কী হয়, তা নিয়ে জল্পনায় ব্যস্ত বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। সম্ভবত সেই কারণেই মে দিবসের এমন ছবি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ছোট, বড়, মাঝারি মিলে ৬০টি শিল্পসংস্থা রয়েছে হলদিয়া শিল্প তালুকে। প্রায় সব জায়গায় আইএনটিটিইউসি-র শ্রমিক ইউনিয়ন। গত দেড় বছরে ৪৭টি ইউনিয়নে নতুন বেতন কাঠামো হয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটা বড় কাজ হয়েছে। কিন্তু মে দিবসে শ্রমিকদের উচ্ছ্বাসের ছবি তেমন ধরা পড়ল না। সে ক্ষেত্রে আইএনটিটিইউসি–তে বারবার কমিটি গঠন, নেতৃত্বের বদলকে বড় কারণ মনে করছেন অনেকে। তমলুক সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইসি কমিটি ভেঙে গড়া হয়েছিল কোর কমিটি। সেই কমিটি উপেক্ষা করে শ্রমিক সংগঠনগুলি দেখভালের জন্য শুধুমাত্র হলদিয়া কোর কমিটি করা হয়। কমিটি ভাঙা-গড়ার খেলায় বদলেছে নেতৃত্ব। অনেকের মতে, শ্রমিকদের মধ্যে তার প্রভাব পড়েছে। এর পরে বিধানসভা ভোটের প্রভাব তো রয়েছেই। ৪ মে ভোট গণনা। তা নিয়েই মে দিবসে ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছে নেতাদের।
হলদিয়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তাপসী মণ্ডল মে দিবসে কয়েকটি কারখানায় ইউনিয়নের অফিসে পতাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ে শ্রমিকদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। উদ্বাস্তু ,ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের অনেকে এখনও কাজ পাননি। তাঁদের বিষয়টিতেও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।’
দিনটি পালনের জন্য আয়োজন থাকলেও শ্রমিকদের কম উপস্থিতি নিয়ে অনেকে মে দিবসের ছুটিকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তবে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ (বিএমএস) ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করে। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তথা হলদিয়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ বিজলী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পরিচিত ১ মে দিনটি আমরা পালন করি না। আমাদের কাছে ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের জন্য যা কিছু বার্তা এই দিনেই আমরা দিয়ে থাকি।’
তবে সিআইটিইউ বেশ কয়েকটি কারখানায় মে দিবস পালন করেছে। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস, হলদিয়া রিফাইনারি, গেঁওখালি জল প্রকল্প, মিৎসুবিশি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সিপিএম নেতা অচিন্ত্য শাসমল, পরিতোষ পট্টনায়করা উপস্থিত ছিলেন। দু’জনেই জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বার মে দিবস পালনে বাম সমর্থিত শ্রমিকের সংখ্যা বেশি ছিল। তবে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনেক জায়গায় নেতৃত্বের দেখা মেলেনি বলে তাঁদের দাবি। সিপিএমের মতে, ভোটে জয়ের হাওয়া কোন দিকে, হলদিয়ায় কারা রাজ করবে, কার্যত সেই হাওয়া বোঝার অঙ্ক প্রভাব ফেলেছে শ্রমিক দিবসের অনুষ্ঠানে।