• দিল্লির বহুতলে বিধ্বংসী আগুন, আবাসনের সব দরজা তালাবন্ধ থাকাতেই কি ৯ জনের মৃত্যু?
    এই সময় | ০৩ মে ২০২৬
  • দিল্লির বিবেক বিহারের চারতলা আবাসিক ভবনে আগুন লেগে মৃত কমপক্ষে নয়। ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর, বহুতলটিতে জরুরি নির্গমন পথ বা ইমার্জেন্সি গেট ছিল না। এমনকী ছাদের দরজা তালাবন্ধ থাকায় আবাসিকরা ভিতরেই আটকে পড়েন। আবাসনের একপাশে লোহার গ্রিল এবং সিঁড়ির দরজায় তালা লাগানো থাকায় পালানোর সব পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার জেরেই ধোঁয়া এবং আগুনের তাপে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বেশিরভাগ জনের। এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারী দল।

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ওই আবাসনের নকশাতেও গলদ ছিল। চারতলা এই আবাসনে যাতায়াতের জন্য মাত্র একটিই সিঁড়ি ছিল। এমনকী, আগুনের লেলিহান শিখা বাড়ির পিছনের অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও জানলা দিয়ে ঝাঁপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, আবাসনের প্রত্যেকটি বারান্দা লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা ছিল। সেই কারণে উদ্ধারকাজেও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল দমকল কর্মীদের।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একটি এসির বিস্ফোরণ থেকে এই ভয়াবহ অগুন লাগে আবাসনে। অভিযোগ, চারতলা ওই আবাসন ও পাশের একটি বাড়ির মাঝে কোনও ফাঁক ছিল না। যার জেরে পাশের বাড়িতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আবাসনের ভিতর থেকে আবাসিকদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। এমনকী প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শিশুকে আবাসনের সামনের দিক থেকে নীচে ঝাঁপ দিতেও দেখা গিয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন, শিখা জৈন (৪৫), অরবিন্দ জৈন (৬০), অনিতা (৫৮), নিশান্ত (৩৫), আঁচল (৩৩) এবং আকাশ জৈন, নীতিন জৈন (৫০) শৈলী (৪৮) সম্যক জৈনের (২৫)। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নবীন জৈন। মৃতদেহগুলো ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এসির বিস্ফোরণ ছাড়া ঘটনায় অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)