হুগলির পান্ডুয়া রেলপাড় এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান করল রেল। শনিবার রাতের অন্ধকারেই জেসিবি নিয়ে অভিযান শুরু করেন রেল কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি দোকান, বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘরছাড়াদের একাংশের ক্ষোভ, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে নোটিস পাঠানো হলেও এত দিন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ভোট মিটতেই ভাঙা হয়েছে তাঁদের ঘর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রেলপাড়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। ২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ মিটে যাওয়ার পরের দিন আবার নতুন করে নোটিস দেওয়া হয় রেলের তরফে।
নোটিসে জানানো হয়, এক দিনের মধ্যে রেলপাড়ের বস্তি এলাকা খালি করতে হবে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেকেই তাদের দোকান ও ঘরবাড়ি খালি করে দেন। স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছে, অনেকের পক্ষে বিকল্প আশ্রয় খুঁজে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শনিবার রাতে হঠাৎ করেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে বিপাকে পড়েন সেই সব মানুষ। ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ। অনেকে ভেঙে পড়েছেন, অনেকে রাস্তায় বসেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, “ভোটের আগে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়নি, কারণ, তখন আমাদের ভোট দরকার ছিল। এখন ভোট শেষ, তাই তড়িঘড়ি উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে।” তাঁদের দাবি, কয়েক দিন সময় দিলে অন্তত বিকল্প ব্যবস্থা করা যেত।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী। অনেক পরিবারই পুনর্বাসনে দাবি জানিয়েছেন। পূর্ব রেলের হাওড়া বর্ধমান মেন শাখার আরও কয়েকটি স্টেশনে দখলকারীদের উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে রেল।