মালদহের ঘটনায় তৃণমূল প্রার্থীর এজেন্ট-সহ একাধিক নেতাকে তলব এনআইএ-র
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৩ মে ২০২৬
মালদহের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত বিচারকদের হেনস্থার ঘটনায় নতুন করে তৎপর হল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই ঘটনার তদন্তে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। সোমবার ভোটগণনার ঠিক আগের দিন, রবিবার দুপুরে তাঁদের কালিয়াচক থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
তলব করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুজাপুরের তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল রহমান। তিনি মালদহ জেলা পরিষদের বন ও ভূমি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শনিবার গভীর রাতে তিনি এনআইএ-র নোটিস পান। এছাড়া কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ সরিউলকেও থানায় ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, সকলকে দুপুর ১২টার মধ্যে থানায় উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় ভোটার তালিকার বিতর্কিত নামগুলির যাচাই-বাছাই করছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। গত মাসে মোথাবাড়িতে তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং অভিযোগ, কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতরে সাত জন বিচারককে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ একাংশ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। এর আগে রাজ্য পুলিশের সিআইডি এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তাঁকে এই বিক্ষোভের অন্যতম মূল চক্রী বলে দাবি করা হয়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে—যাঁদের কেউ এনআইএ হেফাজতে, আবার কেউ জেল হেফাজতে রয়েছেন।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে এই তলব ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।