• উত্তরপ্রদেশে আদমশুমারির সঙ্গে এবার জাতগণনাও, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেওয়া হবে তথ্য
    প্রতিদিন | ০৩ মে ২০২৬
  • উত্তরপ্রদেশে জনগণনার পাশাপাশি জাতগণনাও করা হবে বলে জানালেন রাজ্যের মুখ্য সেনসাস অফিসার শীতল ভার্মা। তিনি রাজ্যের সেনসাস সংক্রান্ত কাজকর্মের ডিরেক্টরও। লখনউয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি সাধারণ মানুষের কাছে যাব, তাঁদের তথ্য নেব। পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণের হদিশ পেতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ২০২৭-এর ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফার কাজ শুরু হবে। আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করব ব্যক্তিগত পরিসরের নানা ক্ষেত্রে। যেমন, আমরা সাক্ষরতার স্তর, প্রজনন ক্ষমতা, পেশার চরিত্র সংক্রান্ত তথ্যও জোগাড় করব। এবার জাতপাত ভিত্তিক জনগণনাও করা হবে।

    প্রসঙ্গত, দেশে শেষবার সামগ্রিক আদম শুমারির সময় জাতপাত সংক্রান্ত সমীক্ষা করা হয়েছিল ১৮৮১ থেকে ১৯৩১-এর মধ্যে। স্বাধীনতার পর হওয়া সব জনগণনাতেই জাতপাতের প্রশ্নটি বিবেচনার বাইরে রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে রাজনৈতিক চাপান উতোরও হয়েছে দীর্ঘকাল। জাতপাতের তথ্য সংগ্রহ করা হলে সামাজিক বৈষম্য, বিভাজনের ছবি সামনে চলে আসবে বলে তা করা হয় না, এমন অভিযোগও রয়েছে। স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পর থেকে এটা হবে অষ্টম জনগণনা, জানান তিনি। ১৮৮১ সালে দেশব্যাপী সেনসাস চালানো হয়েছিল।

    শীতল বলেন, জনসংখ্যার প্রেক্ষাপটে যিনি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দা, তিনিই সেখানকার জনসংখ্যার অংশ হিসাবে গণ্য হবেন এবং জনগণনার আওতায় থাকবেন। কারও কূটনৈতিক ছাড় না থাকলে বা তিনি অন্য দেশের নাগরিক না হলে তাঁকে জনসংখ্যার একজন বলে গণনায় ধরা হবে।

    গত ৩০ মার্চ রেজিস্ট্রার জেনারেল অ্যান্ড সেনসাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণন দেশবাসীকে জনগণনার কাজে আসা কর্মীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আশ্বস্ত করেন, সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্যই গোপন রাখা হবে এবং তথ্যপ্রমাণ হিসাবে কোনও স্কিমের সুবিধা পেতে ব্যবহার করা হবে না। তা তথ্য জানার অধিকার আইনে কোনও সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা হবে না, আদালতে প্রমাণ হিসাবেও পেশ হবে না। সেনসাসে জাতপাতের বিষয়টি ঢোকানো এবং মানুষ এই সংক্রান্ত সঠিক তথ্য নাও দিতে পারেন, এহেন আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতপাত সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করা হবে দ্বিতীয় পর্যায়ে। বিস্তারিত আলোচনার পরই সেই সংক্রান্ত প্রশ্নাবলি চূড়ান্ত করা হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)