ভীমা কোরেগাঁও মামলার অভিযুক্তদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রেক্ষিতে মুম্বই প্রেস ক্লাবে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ। জামিনে থাকা ভীমা কোরেগাঁও মামলার আসামিদের নিয়ে অনুষ্ঠানটির বিষয়ে তথ্য যাচাই ও নথি সংগ্রহ করছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
এদিকে, এই সভা আয়োজনে সহায়তার জন্য মুম্বই প্রেস ক্লাব প্রাক্তন সভাপতি গুরুবীর সিং, বার্নার্ড ডি’মেলো এবং শ্রীকান্ত মোদক নামে তিন সদস্যকে সাসপেন্ড করেছে। যদিও তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ক্লাবের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাটি ১৯ জানুয়ারি মুম্বই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। যেখানে ২০১৮ সালের ভীমা কোরেগাঁও মামলার বেশ কয়েকজন অভিযুক্ত উপস্থিত ছিলেন।
৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে পুনেতে এলগার পরিষদের সম্মেলনে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগে বিশিষ্ট আইনজীবী, সমাজকর্মী এবং শিক্ষাবিদ-সহ প্রায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পুলিশের দাবি, পরের দিন পুনে শহরের বাইরে কোরেগাঁও-ভীমায় অঞ্চলে হিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মামলার তদন্ত করে। পুলিশের দাবি ছিল মাওবাদীরা এই সম্মেলনে সমর্থন করে। পরে এনআইএ মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
সুরেন্দ্র গ্যাডলিং নামে একজন অভিযুক্ত ছাড়া বাকি সকলকেই এই মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের ৮৩ বছরের জেসুইট মিশনারি স্ট্যানকে ২০২০ সালের অক্টোবরে তাঁর রাঁচির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছিল এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র তরফে স্বামীর বিরুদ্ধে মোহন নামে এক মাওবাদী কমান্ডারের থেকে ৮ লক্ষ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ তোলা হয়। ২০২১ সালের ৫ জুলাই জেল হেফাজতে মৃত্যু হয় স্ট্যান স্বামীর। ওই মামলায় জামিনে ছাড় পাওয়া অভিযুক্তরা এখনও অতি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের কেন প্রেস ক্লাবে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হল? সেই নিয়েই তদন্ত শুরু এনআইএর।