সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাত আম আদমি পার্টি রাজ্যসভা সদস্যের অন্যতম সন্দীপ পাঠকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য অপরাধে পাঞ্জাবে দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাঁর দিল্লির বাসভবন ঘিরে রেখেছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল। অথচ তিনি নিজে সেই বাড়িতে নেই।
বিজেপির দাবি, ১ মে পাঞ্জাব বিধানসভার অধিবেশন চলাকালে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের বিরুদ্ধে মত্ত অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল থেকে নজর ঘোরাতেই ‘প্ল্যানমাফিক চক্রান্ত করে’ সন্দীপের বিরুদ্ধে মামলা, এফআইআর দায়ের হয়েছে। দু-দুটি এফআইআর দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারির প্রবল সম্ভাবনার মধ্যেই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না সন্দীপের। ‘বিদ্রোহী’ আপ নেতা শনিবার নয়াদিল্লির সরকারি বাসভবন থেকে অজানা গন্তব্যে বেরিয়ে পড়েছেন। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, বাসভবন কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বিজেপি নেতার ফোন বন্ধ। গ্রেপ্তারি এড়াতে তিনি গোপন কোনও জায়গায় রয়েছেন।
আপ ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া সাত সাংসদকে নিয়ে জলঘোলা চলছে কয়েকদিন ধরেই। তার মধ্যেই সন্দীপের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড়। বিজেপি-সহ বিরোধীদের দাবি, এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নমুনা। বিজেপি তো বটেই সুর চড়াচ্ছে অকালি দলও। এই পরিস্থিতিতে পাঞ্জাবে অকালি দল এবং বিজেপির ফের কাছাকাছি আসা নিয়েও জল্পনা ছড়াচ্ছে।
গত শুক্রবার যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর সঙ্গেই গেরুয়া শিবিরমুখী হন আরও ছয় আপ সাংসদ। তাঁরা হলেন – স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহানি। কিন্তু এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই এবার বিপাকে পড়লেন সন্দীপ। পাঞ্জাব পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার জামিন অযোগ্য ধারায় সন্দীপের বিরুদ্ধে মামলাগুলি রুজু করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং নারী হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মামলা দু’টিতে গ্রেপ্তার হতে পারেন প্রাক্তন আপ নেতা।