পাঁচবার মুচলেকা, ব্রিটিশ সেনাতেও যোগ দিতে চান সাভারকর! আদালতে ‘স্বীকারোক্তি’ বংশধরের
প্রতিদিন | ০৩ মে ২০২৬
বীর সাভারকরকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যে করার অভিযোগে মানহানির মামলা দায়ের হয়েছিল রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। অথচ সেই মামলার শুনানিতে গিয়ে সাভারকরের দৌহিত্র সাত্যকি সাভারকর সেই সব অভিযোগ মেনে নিলেন, যেগুলির জন্য রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তিনি। সাত্যকি সাভারকর মেনে নিলেন, ক্ষমাপ্রার্থনা করে ব্রিটিশদের কাছে পাঁচবার মুচলেকা জমা দিয়েছিলেন বীর সাভারকর। এমনকী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটিশ সেনাতে চাকরির আরজিও জানিয়েছিলেন।
আদালতে সাত্যকি সাভারকর জানিয়েছেন, “একথা সত্যি যে, সেলুলার জেলে বন্দি থাকাকালীন পাঁচবার ক্ষমাপ্রার্থনা করেছিলেন বীর সাভারকর। তবে শুধু তিনি নন, বহু রাজনৈতিক বন্দিই ব্রিটিশ সরকারের কাছে সেই আবেদন জানিয়েছিলেন।” রাহুল গান্ধী তথা কংগ্রেস নেতারা বারবার বলেন, সাভারকরই দ্বিজাতি তত্ত্বের উদ্ভাবক। তবে সাভারকরের দৌহিত্রের দাবি, দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রস্তাবক ছিলেন না সাভারকর। দ্বিজাতি তত্ত্ব নিয়ে তিনি বাস্তবমুখী মন্তব্য করেছেন বটে। তবে মূল ভাবনাটি তাঁর নয়। সেটি ছিল স্যার সইদ আহমেদ খানের প্রস্তাব।’
রাহুল গান্ধীর আইনজীবীদের সওয়ালের মুখে সাত্যকি মেনে নেন, এটাও ঠিক যে ব্রিটিশ সেনায় নাম লেখাতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন সাভারকর। তবে তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ-ভারতীয়দের জন্য সামরিক ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং সেনার বিভিন্ন পদে কাজের অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা করা। যাতে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দেশের নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা যায়। তবে চমকপ্রদভাবে সাত্যকির দাবি, সাভারকর গরুকে কখনও ভগবান হিসাবে দেখেননি। বরং উপকারী প্রাণী হিসাবে মনে করতেন। বস্তুত সাভারকরের বিরুদ্ধে রাহুল যা যা অভিযোগ এনেছিলেন, সেগুলির বেশিরভাগই মেনে নেন সাত্যকি। শুধু গরুর ব্যাপারটি বাদে।
উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলার শুনানি চলছে পুণের এমপি-এমএলএ কোর্টে। মামলা দায়ের করেছিলেন সাভারকরের পৌত্র সত্যকি নিজেই। তাঁর অভিযোগ ছিল, “২০২৩ সালের ৫ মার্চ লন্ডন সফরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সাভারকরকে অপমান করেছিলেন কংগ্রেস নেতা। বছরের পর বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার অপমানজনক মিথ্যা তথ্য দিয়ে গিয়েছেন রাহুল। সত্য জানা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যা বক্তব্য পেশ করেছেন তিনি।” সাত্যকির দাবি, রাহুল যেসব দাবি করেছেন সেগুলির কোনওটিই সম্পূর্ণভাবে সত্যি নয়।