‘ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর/ শওকত তো মাছচোর...।’ দ্বিতীয় দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) শেষ লগ্নে ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে বিঁধে বানানো এই গান ভাইরাল (Viral Mach Chor Song)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গণ্ডি পেরিয়ে তা ঢুকে পড়েছে আম বাঙালির রান্নাঘরে। চায়ের আড্ডায় তুফান তুলেছে। নওশাদ সিদ্দিকির দল ISF-ই এই গান বাঁধার নেপথ্য কারিগর বলে নানা মহলের। তবে রবিবার সব ‘অভিযোগ’ অস্বীকার করলেন নওশাদ নিজেই। বলে দিলেন, ‘সাধারণ মানুষ আবেগ থেকে এই গান তৈরি করেছেন। ISF-এর সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।’
এই গানে মূলত শওকত মোল্লার জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া করেছেন গায়ক। তাঁকে সরাসরি ‘ক্রিমিনাল’ বলে আক্রমণ করা হয়েছে। এমনকী শওকত ‘বোমা বাঁধেন’ বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে গানের কথায়। অনেকেরই দাবি, গানটি ISF-এর ইউটিউব চ্যানেল থেকেই প্রথম আপলোড করা হয়েছিল। তার পরে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাংলায়। তবে এই দাবি মানতে রাজি নন নওশাদ। তিনি সরাসরি বলে দিলেন, ‘শওকতকে নিয়ে কিছু বললেই সেটা আমার আর ISF-এর ঘাড়ে চাপানো হয়। কিন্তু এর সঙ্গে আমাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই।’
তবে ‘মাছচোর’ গান যে তিনি নিজেও বেশ উপভোগ করছেন, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন নওশাদ। হাসতে হাসতে বললেন, ‘কত যে মিম ছড়াচ্ছে বলার কথা নয়। বিদেশেও গানটা হিট। গতকাল দেখলাম, ক্যানাডার এক ভদ্রলোক, এই গান বাজিয়ে নাচছেন।’ তবে তিনি নিজে কখনও ‘বিলো দ্য বেল্ট’ আক্রমণ করেননি বলেই দাবি করলেন ভাঙড়ের প্রার্থী।
ভাঙড় কেন্দ্রে জয় নিয়েও একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী তিনি। রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে বললেন, ‘অন্তত ২৫ হাজার ভোটে জিতব।’ এ বারের নির্বাচনে বাম ও ISF জোটের ব্যাপক উত্থান হবে বলেও দাবি করেন নওশাদ। বলে দেন, ‘বিজেপি বা তৃণমূল, কেউই এ বারে ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবে না। ISF-বাম জোটই নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে।’ কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত বা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সমর্থন না করে বিকল্প শক্তিকে সুযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তবে ‘মাছচোর’ গানকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না শওকত। পাল্টা নাম না করে নওশাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। শওকত বলেন, ‘ISF-এর রুচি বোধ বলে কিছু নেই। ওদের দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন এক মহিলা। সেই দলের থেকে এর চেয়ে বেশি কী আর আশা করা যায়।’ জনতা জনার্দনের হাতেই সব ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। শওকতের কথায়, ‘ওরা যা বলছে বলুক। মানুষ ভেবেচিন্তেই ভোট দিয়েছেন। আগামী দিনেও দেবেন।’