• হার না মানা লড়াই দুই ফুলের, দু’মাস ব্যাপী প্রচারে এগিয়ে কোন শিবির?
    এই সময় | ০৪ মে ২০২৬
  • রাজনীতিতে যুযুধান দুই শিবিরের হার না মানা এ হেন লড়াই শেষ কবে দেখেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী? মনে পড়ছে না অনেকেরই। সূচাগ্র মেদিনী না ছাড়ার লক্ষ্যে প্রচারের ময়দানে সমান তালে লড়াই করেছে ঘাসফুল ও পদ্মফুল শিবির। দুই শিবিরের নেতৃত্বেরই আপ্তবাক্য ছিল, ‘ফ্লাওয়ার সমঝে কেয়া! ফ্লাওয়ার নেহি, ফায়ার হু ম্যাঁয়।’ গোটা রাজ্য জুড়ে সভা, মিছিল, রোড শো, পথসভা এবং সর্বোপরি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের দিক থেকে এগিয়ে ছিল তৃণমূল ও বিজেপি।

    তৃণমূল সূত্রে খবর, বিজেপির অপপ্রচারের মোকাবিলা করতে এবং নিজেদের উন্নয়নমূলক কাজ ও কর্মসূচি তুলে ধরতে দলটি ৩০০-রও বেশি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। করা হয়েছে একাধিক সভা, পথসভা, রোড শো, মিছিল।বিরোধীদের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করতে ছাড়েনি তারা।

    তৃণমূলের প্রচারে প্রধান অবশ্যই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একশোর বেশি সভা এবং পনেরোটির বেশি মিছিল করেছেন মমতা নিজে। নজিরবিহীন ভাবে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে একাধিক সভা, মিছিল, দলীয় বৈঠক করেছেন তিনি। অন্য দিকে, টানা ৩৬ দিনের প্রচারে একাধিক সভা ও রোড শো করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সব মিলিয়ে দু'জনে প্রায় ২০০-র বেশি সভা-রোড শো করেছেন।

    জাতীয় বা কেন্দ্রীয় বিষয়গুলির ক্ষেত্রে—কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হতো। স্থানীয় বিষয়গুলির ক্ষেত্রে—কলকাতা এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় এলাকা—উভয় স্থানেই সাংবাদিক সম্মেলন নিশ্চিত করা হতো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শাহের বক্তব্যের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছিল।

    প্রতিটি জেলায় একটি করে 'মিডিয়া সেল' বা প্রচার কক্ষ স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিদিন সেখানে দলের মুখপাত্র কিংবা কোনও শীর্ষস্থানীয় নেতা উপস্থিত থেকে প্রতিপক্ষের বয়ানের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে।

    বিজেপির প্রচারের অন্যমত মুখ ছিলেন অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পাশাপাশি বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হাজির ছিলেন প্রচারে। মোট ৬৪০ জন জাতীয় স্তরের নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদী মোট ১৯টি জনসভা করেন। পাশাপাশি ২টি রোড শো করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মোট ২৯টি জনসভা ও ১১টি রোড শো করেছেন।

    পরিবর্তন যাত্রা শেষে ১৪ তারিখ আয়োজন করা হয় ব্রিগেড সমাবেশের।এর পরে ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট’ কর্মসূচি নেয় বিজেপি। ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কর্মসূচি হয়। ২২০টি বেশি বিধানসভায় এটা পেশ করা হয়। ১৫০ নেতা ছিলেন চার্জাশিট পেশ কার্যক্রমে। ৮০টির বেশি সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি। বাঙালি আবেগে শান দিতে প্রধানমন্ত্রী নিজে শিলিগুড়ি একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া, ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খাওয়া থেকে শুরু করে কলকাতায় নৌকাবিহার এবং ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দেন।

    পরীক্ষা শেষের পরে এ বার ফলাফলের পালা। প্রহর গুনছেন দুই দলের নেতৃত্ব, কর্মী, সমর্থকেরা।

  • Link to this news (এই সময়)