• বর না পসন্দ, মাঝপথেই পাত্রকে গুলি করে খুন কনের আত্মীয়ের! নেপথ্যে কি অন্য কারণ?
    প্রতিদিন | ০৪ মে ২০২৬
  • বিয়ে বলে কথা। হইহই আনন্দ করে ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে কনের বাড়িতে যাচ্ছিল বরযাত্রীর দল। স্বভাবতই পুরোভাগে ছিল বরের সুসজ্জিত গাড়ি। যদিও ছাদনাতলা অবধি পৌঁছতে পারলেন না তিনি। পথেই গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হলেন যুবক। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) জৌনপুরে নেমেছে শোকের ছায়া। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কনের বাড়ির এক আত্মীয়। তদন্তে নেমে পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৩৫-এ জাতীয় সড়কে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে চেপে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন আজাদ বিন্দ। মেয়ের বাড়ির ৫ কিলোমিটার আগে সেই গাড়িটির পথ আটকায় একটি বাইক। ওই বাইক থেকে নেমে মুখোশ পরা তিন দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে আজাদকে গুলি করে পালিয়ে যায়। একই গাড়িতে থাকা যুবকের এক আত্মীয় পুলিশকে জানান, গুলি লাগার পরেও জ্ঞান ছিল আজাদের। তাঁর শেষ কথা ছিল, “হুমকি দিয়েছিল, বাঁচতে দেবে না।” সঙ্গী আত্মীয়রা দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান গুলিবিদ্ধ বরকে। যদিও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    পুলিশ মনে করছে, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। অভিযুক্তরা বরযাত্রীদের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। ক্রমাগত বরের অবস্থান জানানো হচ্ছিল ঘাতকদের। কনেপক্ষের একজন দূর সম্পর্কের আত্মীয় মূলচক্রী। তদন্ত সূত্রে উঠে এসেছে দুই আত্মীয় প্রদীপ বিন্দ এবং রবি যাদবের নাম। তাঁরাই মূলচক্রী বলে মনে করছেন এসপি কুনওয়ার সিং। প্রদীপ ও রবির সঙ্গী হয় ভোলে রাজভার। জানা গিয়েছে, বর হিসাবে আজাদকে পছন্দ ছিল না প্রদীপের। সেকথা তিনি জানিয়েও ছিলেন। বিয়ের একদিন আগে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ।

    হত্যাকাণ্ডের পরেই পলাতক হয়েছেন তিন অভিযুক্ত। তাঁদের পাকড়ায় করতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারিতে সাহায্য করলে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রদীপ বিন্দ পুরনো অপরাধী। গত বছর জানুয়ারি মাসে জৌনপুরে একটি খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরে জামিনে মুক্ত হন। ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে দু’টি গুলি লাগে আজাদের। একটি পিঠ দিয়ে ঢুকে বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়, অন্যটি চোয়াল ভেদ করে বেরিয়ে যায়। বরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছে দুই পরিবার। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)