• ভোট বাজারে জ্যোতিষীদের চ্যালেঞ্জ! কোন দল কত পাবে? বলতে পারলেই পুরস্কার বিজ্ঞান সমিতির
    প্রতিদিন | ০৪ মে ২০২৬
  • ভোটগণনার আগে জ্যোতিষীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ল ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির পুরুলিয়া শাখা! আগামী ৪ মে কোন দল কত আসন পাবে, তা রবিবার রাতের মধ্যে সঠিকভাবে বলে দিতে পারলে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেবে বিজ্ঞানমনস্ক সংগঠনটি। পুরুলিয়া জেলা শাখার সম্পাদক তথা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মধুসূদন মাহাতো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘জ্যোতিষীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ কোন দল কত আসন পাবে, ৩ মে-র মধ্যে সঠিক বলে দিতে পারলেই পাবেন ৫০ লক্ষ টাকা।’ এমন ইনাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির বার্তা, জ্যোতিষশাস্ত্র কোন বিজ্ঞান নয়, একটা ভ্রান্ত বিষয়। তাদের ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে বিন্দুমাত্র যুক্তি বা অঙ্ক নেই।

    এদিকে, ‘পাশে আছি পুরুলিয়া’ নামে একটি সংগঠন এই জেলার বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফল সঠিকভাবে মিলিয়ে দিতে পারলে ২১০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এনিয়ে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করা ওই সংগঠনের ক্যাচলাইন, ‘দেখি কে হবেন আসল রাজনৈতিক বিশ্লেষক।’ ভোটগণনার আগে এমন সব টুকরো টুকরো ঘটনায় জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় উত্তেজনার পারদ চড়ছে।

    ২০১৯ সালের লোকসভায় পুরুলিয়া লোকসভা আসনে জয়-পরাজয় নিয়ে রীতিমতো চুক্তিপত্র সই করে বাজি রাখা হয়েছিল এই জেলার গ্রামে। যা নিয়ে কম হইচই হয়নি। ভোটের ফলাফল নিয়ে আবারও কার্যত তেমনই কিছু। তবে বাজি নয় এবার, সরাসরি পুরস্কার ঘোষণা করা হল। বিজ্ঞানমনস্ক সংগঠনের পুরুলিয়া জেলার সম্পাদক মধুসূদন মাহাতো বলেন, ‘‘আমি কয়েকদিন আগে সমাজ মাধ্যমে ওই পোস্টটা করেছি। ভাইরাল হয়েছে শীঘ্রই। এখনও কোনও জ্যোতিষী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন দল কত আসন পাবে, তার একেবারে সঠিক সংখ্যা বলতে পারেনি। ভবিষ্যদ্বাণী যে এভাবে করা যায় না এবং তার মধ্যে যে কোনও বিজ্ঞান নেই, সেটাই প্রমাণিত।” এদিকে ‘পাশে আছি পুরুলিয়া’ সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেছে, পুরুলিয়ার বিধানসভা অনুযায়ী আগাম হিসেব করতে পারবেন? সঠিক প্রেডিকশন করলে মিলবে ২১০০ টাকা। দেখি কে হবেন আসল রাজনৈতিক বিশ্লেষক।’ এইসব পোস্টে পর সমাজমাধ্যমে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের বন্যা বইছে।

    এরই মাঝে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির আরেকটি পোস্ট ঘিরেও সমাজ মাধ্যমে নজর কেড়েছে। তাদের বার্তা একটাই, ভোট মিটে গিয়েছে এবার ভ্রাতৃত্বের পালা। কোনও হিংসা যাতে না ঘটে। রীতিমতো যুক্তি-তর্ক দিয়ে আবেগঘন পোস্টে লেখা রয়েছে, একটু ভেবে দেখুন নেতারা কি ঝগড়া করেন? বিভিন্ন দলের নেতারা বিধানসভা বা সংসদের ক্যান্টিনে বসে একসঙ্গে চপ খান। হাসাহাসি করেন। তাঁরা একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ান। সেইসঙ্গে কর্মী কেন লড়বেন? এই প্রশ্ন তুলে লেখা হয়েছে, ‘নেতারা যখন ব্যক্তিগত স্তরে বন্ধু তখন সাধারণ সমর্থক হিসেবে আমরা কেন পাড়ার বন্ধু বা প্রতিবেশীর রক্ত ঝরাব? তারপরেই ওই বিজ্ঞানমনস্ক সংগঠনের লেখা, উসকানিমূলক কথায় কান দিয়ে নিজের বা অন্যের জীবন নষ্ট করবেন না। মনে রাখবেন রাজনীতি মানে সমাজসেবা, সমাজ ধ্বংস করা নয়।’
  • Link to this news (প্রতিদিন)