রাত পোহালেই বিধানসভার ভোট গণনা। তার আগেই বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একাধিক এলাকায় পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করে দেওয়া হচ্ছে করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে সব কিছু করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাত জেগে দলীয় কর্মীদের স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল, দু'দফার হয়েছে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন (assembly elections)। ইভিএম (EVM) রাখা আছে স্ট্রংরুমে। কড়া পাহারা আছে সেখানে। তবে এই স্ট্রংরুমে ঢুকে বিজেপির লোকজন কারচুপি করতে পারে বলে অভিযোগ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করে বিজেপি (BJP)। দু'পক্ষই স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় দলীয় কর্মীদের। তবে, সোমবার, ভোটগণনার আগে রাজ্যে ফের ‘স্ট্রংরুম রাজনীতি’।
গণনা শুরুর কয়েক ঘন্টা আগেই ফের ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ক্যামেরা বন্ধের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দু'মিনিট বন্ধ ছিল স্ট্রংরুমের একাধিক ক্যামেরা বলে অভিযোগ। কী কারণে ক্যামেরা বন্ধ তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে কাউন্টিং-এর আগে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাদের এজেন্টরা যখন বসে ক্যামেরা মনিটরিং করছিলেন তখন হঠাৎই সমস্ত ক্যামেরা প্রায় দু[মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এই নিয়ে রাতে কিছু জানানো হয়নি নির্বাচন কমিশনের তরফে।
আর, এর পরেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, হুগলির শ্রীরামপুর, নদীয়ার কৃষ্ণনগর বর্ধমানের আউশগ্রাম-সহ বিভিন্ন জায়গায় ‘পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করে দেওয়া হচ্ছে’। কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রেও একই কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। তাঁর দাবি, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে দফায় দফায় লোডশেডিং করা হচ্ছে, সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এই কারণেই রাত জেগে সতর্ক থেকে স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য দলীয় কর্মীদের কাছে আবেদন জানান তিনি।
উল্লেখ্য, একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। ওই আসনে হেরে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারচুপি করে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীকে বলেও অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। এ বার গণনাকেন্দ্রে যাতে লোডশেডিংনা হয় তার নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে।