• পর্যটনের একঘেঁয়েমি কাটাবে 'বাঘিরাস ট্রেল' বন-রেলের যৌথ উদ্যোগে
    আজ তক | ০৪ মে ২০২৬
  • Bagheera's Trail Kurseong: ঘুম ভাঙছে কার্শিয়াংয়ের: টয় ট্রেন আর বনের গল্পে এবার সাজছে ‘বাঘিরা’স ট্রেইল’
    নিজস্ব প্রতিনিধি, কার্শিয়াং: পাহাড়ে গিয়ে কি কেবল সাত-পয়েন্ট সাইটসীয়িং আর ট্রাফিক জ্যামে হাঁসফাঁস করা? ভিড়ে ঠাসা দার্জিলিং যাওয়ার পথে আমরা কি আসল পাহাড়টাকেই হারিয়ে ফেলছি? এই প্রশ্ন যখন পর্যটকদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই হিল ট্যুরিজমের সংজ্ঞা বদলে দিতে আসরে নামল রেল ও বন দফতর। পর্যটনের ক্লান্তি কাটাতে কার্শিয়াং এবার আর কেবল যাওয়ার পথের বিরতি নয়, হয়ে উঠছে গন্তব্য। আজ, ২৮ এপ্রিল এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উদ্বোধন হলো নতুন পর্যটন সার্কিট ‘বাঘিরা’স ট্রেইল’।

    ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পাওয়া দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) এবং কার্শিয়াং বন দফতর হাত মিলিয়ে এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য একটাই ‘স্লো ট্রাভেল’ বা ধীরেসুস্থে পাহাড়কে চেনা। অনেক সময় দেখা যায় কুয়াশার জন্য টাইগার হিল বা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না, ফলে পর্যটকরা হতাশ হন। সঙ্গে আছে যানজট আর যত্রতত্র ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের জঞ্জাল। এসবের উত্তর খুঁজতেই জন্ম নিল এই নতুন পথ।

    কী কী থাকছে এই নতুন সফরে?
    কেবল ট্রেনের জানলা দিয়ে দেখা নয়, এবার পর্যটকরা সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন প্রকৃতির সাথে। দেখে নেওয়া যাক ‘বাঘিরা’স ট্রেইল’-এর বিশেষত্ব:

    হেরিটেজ টয় ট্রেন: শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং হয়ে টুং পর্যন্ত বিশেষ যাত্রায় রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং জাদুকে কাছ থেকে দেখা।

    বুনো পথে হাঁটা: বন দফতরের গাইড আর গ্রামের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে কার্শিয়াংয়ের গভীর জঙ্গলে ট্রেকিং।

    পাহাড়ি খাবারের স্বাদ: জঙ্গলের টাটকা আনাজ আর নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরি খাবার পরিবেশন করবেন বন-সংলগ্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা।

    ভৌতিক ও ঐতিহাসিক আখ্যান: ডাউহিল-চিমনি এলাকার গা ছমছমে লোককথা আর ব্রিটিশ আমলের ইতিহাস নিয়ে স্টোরি-টেলিং ট্রেইল।

    শেরপা সংস্কৃতি: পাহাড়ি গ্রামে হোম-স্টে এবং স্থানীয় শেরপা ও গোর্খা সংস্কৃতির নিবিড় সান্নিধ্য।

    কার্শিয়াং বন দফতরের ডিএফও-র কথায়, "এখানে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ আর প্রাকৃতিক ইতিহাসের মিলন ঘটেছে। পর্যটন তখনই সার্থক হয় যখন স্থানীয় গ্রামবাসী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি তার মালিকানা পায়।" অন্যদিকে, ডিএইচআর ডিরেক্টর জানিয়েছেন, পর্যটকরা যাতে শুধু ক্লান্ত হয়ে দার্জিলিং না পৌঁছান, বরং কার্শিয়াংয়ের হেরিটেজ বুঝে নিয়ে পাহাড়কে ভালোবাসতে শেখেন, সেটাই তাঁদের লক্ষ্য।

    আজ বুধবার উন্মোচিত হবে 'টি হেরিটেজ সার্কিট', যা মকাইবাড়ি থেকে সেলিম হিলের মতো বিখ্যাত চা বাগানগুলিকে যুক্ত করবে টয় ট্রেনের সঙ্গে। রাজ বসু (কনভেনার, এসিটি)-র মতে, পাহাড়ের রানি যদি বার্ধক্যের অভিযোগ সরাতে চায়, তবে এই 'বাঘিরা’স ট্রেইল'-ই হবে তার তারুণ্য ফেরার দাওয়াই।

     
  • Link to this news (আজ তক)