সংবাদদাতা, কালিয়াচক: ফল ঘোষণার আবহে মালদহ জেলাজুড়ে রঙের বাজার তুঙ্গে। মোথাবাড়ি ও সুজাপুর বিধানসভা এলাকায় সবুজ আবিরের চাহিদা ছাপিয়ে যাচ্ছে অন্য সব রংকে। স্থানীয় বাজারগুলিতে তাই বাড়ন্ত এই সবুজ আবির।
কালিয়াচকের আবির বিক্রেতা আফজল শেখ বলেন, এবার গেরুয়া আবির বিক্রি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মোথাবাড়ি আর সুজাপুরের ক্রেতারা মুলত সবুজ আবির চাইছেন। বিশেষ করে তৃণমূল আর কংগ্রেসের কর্মীরা এসে একসঙ্গেই সবুজ আবির কিনছেন। মাঝে মধ্যে কেউ কেউ গোলাপি আবির নিচ্ছেন বটে, কিন্তু সেটা খুবই সামান্য।
একই সুর শোনা গেল আরেক বিক্রেতা আসমাউল হকের গলাতেও। তাঁর কথায়, গত দু’দিন দোকান খুললেই সবুজ আবিরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বলতে গেলে ৯০ শতাংশ ক্রেতাই এই আবির নিচ্ছেন। আমাদের বেশি করে সবুজ আবির মজুত রাখতে হচ্ছে, নাহলে চাহিদা মেটানো কঠিন।
অন্যদিকে, মোথাবাড়ি থেকে কালিয়াচকে আবির কিনতে আসা তৃণমূল কর্মী জাকির হোসেন বললেন, আমাদের দলীয় রং সবুজ, তাই জয়ের আশায় সেই রঙের আবিরই কিনছি। সুজাপুর, মোথাবাড়ি এবং বৈষ্ণবনগর এলাকায় আমাদের সংগঠন শক্তিশালী, তাই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। গত বিধানসভা ভোটে এই তিন কেন্দ্রে তৃণমূল জিতেছিল। এবারেও একই ফলাফল হবে। ভোটের ফল প্রকাশের দিন সবুজ আবিরে ভরে উঠবে চারদিক।
সুজাপুরের কংগ্রেস নেতা মজিদ আলির বক্তব্যও কিছুটা এক তাঁর মন্তব্য, আমরাও সবুজ আবির নিচ্ছি। কারণ এখানে লড়াইটা খুব টানটান। তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও আমরা খুব একটা পিছিয়ে নেই। লোকসভায় সুজাপুর ও মোথাবাড়িতে তৃণমূলের থেকে আমাদের লিড অনেক বেশি ছিল। সেই নিরিখে এবারও ভোট হয়েছে। জয়ের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত লড়েছি। মানুষ তাতে সাড়াও দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কংগ্রেস কঠিন লড়াইয়ে ফেলেছে শাসক দলকে। সেই কারণেই দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একপ্রকার নীরব প্রতিযোগিতা চলছে। যার প্রভাব পড়েছে আবিরের বাজারেও। সব মিলিয়ে, ভোটের ফল ঘোষণার আগে থেকেই রঙের রাজনীতি জমে উঠেছে মালদহের এই দুই কেন্দ্রে।