কালবৈশাখী ঝড়ে ছিঁড়েছে ফেস্টুন, দুর্ঘটনার শঙ্কা, সরব পরিবেশকর্মীরা, সমালোচনার জেরে সাফাই অভিযান শুরু করছে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা
বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
সমীর সাহা, নবদ্বীপ: ভোট মিটেছে ছ’দিন আগে। গণতন্ত্রের উৎসব এখন শেষ লগ্নে। অথচ ভাঙা হাটের মতো পথে ঘাটে লুটোপুটি খাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির পতাকা ও ফ্লেক্স। কিন্তু ভোটের আগে পরম যত্নে পতাকা, ব্যানার, ফ্লেক্স লাগিয়ে ছিলেন বিভিন্ন দলের কর্মীরা। বিভিন্ন দলের পতাকার রাস্তায় গড়াগড়িতে নবদ্বীপ শহরে দৃশ্য দূষণের অভিযোগ উঠছে। সরব হয়েছেন পরিবেশবিদরাও। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ টের পেয়ে তড়িঘড়ি দলীয় পতাকা, ফেস্টুন, ব্যানার, ফ্লেক্স সরাতে ময়দানে নামছেন রাজনৈতিক দলগুলির নেতা, কর্মীরা।
নির্বাচনি প্রচারে তৃণমূল থেকে বিরোধী বিজেপি, সিপিএম এবং জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা ও ফেস্টুনে ছেয়ে গিয়েছিল নবদ্বীপ শহরের অলিগলি থেকে রাজপথ। ভোট পর্ব মিটে যেতেই সেগুলি কেউই খুলে ফেলার গরজ দেখায়নি। এর উপর কালবৈশাখীর ঝড়ে উড়ে গিয়ে সেসব পতাকা কোথাও পড়ে আছে নর্দমায় তো কোথাও গড়াগড়ি খাচ্ছে রাস্তায়। জলঙ্গি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক পেশায় পরিবেশ কর্মী শঙ্খশুভ চক্রবর্তী বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানার, ফেস্টুন অধিকাংশই পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক সব উপাদান দিয়ে তৈরি। সেগুলি রাস্তা ঘাটে যেখানে সেখানে পড়ে থাকলে পরিবেশ দূষণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলি সযত্নে ওই ব্যানার, ফেস্টুন সব খুলে রেখে পরবর্তী সময়ে সেগুলির পুনর্ব্যবহার করলে পরিবেশরক্ষার দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও এটি লাভজনক উপায়। সব রাজনৈতিক দলের কর্মী ও নেতৃত্বের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা পুনর্ব্যবহারের পদক্ষেপ করে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।
নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, যার দলের পতাকা তার কাছে সম্মান যথেষ্ট। অতএব পতাকা রাস্তাঘাটে পদদলিত হবে সেগুলি আমরা চাই না। সব দলের সদস্যদের এগুলি শ্রদ্ধা জানিয়ে সযত্নে তুলে নেওয়া উচিত। আমরা দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেব যেখানেই রাস্তায় দলীয় পতাকা পড়ে থাকবে সেগুলি কুড়িয়ে নিয়ে যত্ন করে রাখতে।
বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, শুধু আমাদের দলের পতাকাই নয়, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকাও যদি অবহেলায় পড়ে থাকে, সেই সব পতাকা সযত্নে সেই স্থানে তুলে রেখে দেওয়া হবে। সিপিএম প্রার্থী স্বর্ণেন্দু সিংহ বললেন, আমাদের পার্টির বরাবরের অভ্যেস ভোট মিটলেই সব ফ্ল্যাগ ফেস্টুন খুলে ফেলি ও পরের নির্বাচনের জন্য সংরক্ষণ করি। এবারেও ভোটের পরদিন থেকেই ঝান্ডা খোলার কাজ শুরু করেছেন দলীয় কর্মীরা। আবার জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী সমীর সাহা বললেন, প্রত্যেক দলেরই দলীয় পতাকার যত্ন নেওয়া উচিত। যাতে পরিবেশ নোংরা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা পতাকা, ফ্লেক্স খোলার কাজ শুরু করে দিয়েছি।