সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: গৃহস্থের গ্যাস সিলিন্ডারের দাম আপাতত না বাড়লেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার পেতে ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষকে নাজেহাল হতে হচ্ছে। পাশাপাশি ১ মে থেকে এক ধাক্কায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডার পিছু ৯৯৩ টাকা দাম বাড়ায় হোটেল রেস্তোরাঁ, পর্যটন কেন্দ্রের গেস্ট হাউস থেকে রাস্তার ধারের ফাস্টফুডের দোকানদারদের মাথায় হাত। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁর মালিকদের ‘মড়ার উপর, খাড়ার ঘা’ এসে পড়েছে। ফলে তাঁরা খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। অপরদিকে এক ধাক্কায় খাবারের দাম বাড়ানো হলে মালিকদেরও ক্রেতাদের রোষে পড়তে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফাস্টফুডের দোকানদাররা বলছেন, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের এভাবে দাম বাড়ায় খাবারের দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। আবার না বাড়ালে পকেট থেকে গচ্ছা দিতে হবে। এখন যেন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। ব্যবসা চালানোই বড় মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।
রঘুনাথপুর মহকুমায় বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুড দোকানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য বর্তমানে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার পেতে অসুবিধা হচ্ছে। ফলে শহরের বেশিরভাগ হোটেল, রাস্তার ধারের ফাস্ট ফুডের দোকান প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহর লাগোয়া হোটেলগুলিতে মাসে ৩০ থেকে ৪০ টি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু এক ধাক্কায় দাম বৃদ্ধির ফলে মাসের শেষে বড় অঙ্কের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের বাস। আচমকাই খাবারের দাম বৃদ্ধি হলে অনেকেই অসুবিধায় পড়বেন। তখন অনেকেই হোটেল, রেস্তোরাঁমুখী হবেন না। ফলে মালিকদের লোকসানে পড়তে হবে। আবার খাবারের দাম না বাড়ালে পকেট থেকে বাড়তি টাকা গুনতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। ফলে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন উভয় সংকটে।
রঘুনাথপুর শহরের এক হোটেল ব্যবসায়ী রাজাপ্রতাপ চৌধুরীর কথায়, মাসে ৩০টির বেশি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। এখন সিলিন্ডার পাওয়া দুস্তর হয়ে উঠছে। তার উপরে দাম বাড়ানোয় সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সাঁতুড়ির বড়ন্তি পর্যটন কেন্দ্রের একটি গেস্ট হাউসের মালিক বিশ্বনাথ তন্তুবায় বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যটন মরশুম নয় বলে কোনোরকম কাঠে, ইলেকট্রিক হিটারে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কাশীপুরের প্রত্যন্ত এলাকার তেলেভাজা দোকানের মালিক সুবোধ কর বলেন, একসময় কয়লা দিয়ে কাজ করতাম। কয়লা পেতে সমস্যা হচ্ছিল। তাই কয়েক বছর ধরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে তেলে ভাজার ঠেলা চালাচ্ছি। কিন্তু সিলিন্ডারের অভাবে এখন প্রায় দিন দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় মা ক্যান্টিন চালাতে গিয়েও সমস্যা হচ্ছে। হঠাৎ সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে অসুবিধা দেখা গিয়েছে।