• নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অনলাইন বেটিংয়ের রমরমা পশ্চিম মেদিনীপুরে
    বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ভোট মিটেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। এখন শুধু অপেক্ষা ফল ঘোষণার। আর সেই অপেক্ষার আবহেই পশ্চিম মেদিনীপুরজুড়ে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ। চায়ের দোকান থেকে বাজার, অলিগলি থেকে দলীয় কার্যালয়— সব জায়গাতেই এখন একটাই আলোচনা, কে আসছে ক্ষমতায়। আর এই জল্পনার আবহেই জেলাজুড়ে মাথাচাড়া দিয়েছে অনলাইন বেটিং। কোন দল কত আসন পাবে, তা নিয়েই লাখ লাখ টাকার বাজি ধরছেন সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক কর্মীরা।

    সূত্রের খবর, গোটা রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও এবার ভোট হয়েছে মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অশান্তির জন্য পরিচিত কেশপুরের মতো এলাকাতেও বড় ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটেনি। প্রায় ৩৪ লক্ষেরও বেশি ভোটার নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন নির্বিঘ্নে। আর সেই কারণেই ফলাফল নিয়ে ধন্দ আরও বেড়েছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটের দিন বড় কোনো গোলমাল না হওয়ায় কোন দলের দিকে জনমত গিয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না অনেকেই। এই অনিশ্চয়তার আবহকেই হাতিয়ার করেছে অনলাইন বেটিং চক্র। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গোপনে চলছে ফলাফল নিয়ে বাজি ধরা। কোথাও নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা নিয়ে বাজি, কোথাও আবার কোন দল সরকার গড়বে তা নিয়েই চলছে টাকার খেলা। মোবাইল ফোনের এক ক্লিকেই লেনদেন হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, যুবক এমনকী সাধারণ মানুষও এই বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন বলে খবর। অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বলেন, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। কে কতগুলো আসন পাবে, তা নিয়েই বেশি বাজি ধরা হচ্ছে। একটা নির্দিষ্ট হিসেবের মধ্যে ফল মেলাতে পারলেই ডাবল ডাবল টাকা। অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করছে। 

    এদিকে ভোটের ফল ঘোষণার আগের দিনও ব্যস্ততার মধ্যেই কাটিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। একদিকে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক, অন্যদিকে মানসিক প্রস্তুতি। কেউ মন্দিরে পুজো দিচ্ছেন, কেউ আবার সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আলোচনা সারছেন। মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত বলেন, রবিবার বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দিয়েছি। গোটা রাজ্যেই আমাদের ফল ভালো হবে। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। আমাদের কর্মীরাও সবদিক থেকে প্রস্তুত। অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী শোনাল মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরাকেও। তিনি বলেন, রবিবার কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেই দিন কেটেছে। মানুষের উপর আমাদের পূর্ণ ভরসা রয়েছে। উন্নয়নের ভিত্তিতেই মানুষ ভোট দিয়েছেন।

     সব মিলিয়ে ভোট পরবর্তী আবহে এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুর। একদিকে রাজনৈতিক অঙ্ক কষছে বিভিন্ন দল, অন্যদিকে সেই অঙ্ক নিয়েই জমে উঠেছে অনলাইন বেটিংয়ের বাজার।
  • Link to this news (বর্তমান)