আজ নন্দীগ্রামের শাপমুক্তি হবে বলে আশাবাদী তৃণমূল, জয়ের আভাস পাওয়া মাত্র বাজতে শুরু করবে ডিজে
বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আজ নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে প্রত্যয়ী তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই উৎসাহী কর্মীরা অগ্রিম ডিজে, তাসা বুকিং করে রেখেছেন। সোমবার নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের তেরপেখ্যায় কর্মীরা জড়ো হয়ে সেখানে খাওয়া-দাওয়া, আর জয় সেলিব্রেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের আমড়াতলা, ভেটুরিয়া সহ বেশকিছু জায়গায় আগাম ডিজে বুকিং করা হয়েছে। এবারের ভোটে প্রচার পর্বেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৪মে রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে ডিজে বাজানোর কথা বলেছিলেন। তাঁর কথায় অনুপ্রাণিত তৃণমূল কর্মীদের একাংশ ডিজে বাজানোর জন্য সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। বয়াল-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উৎসাহী তৃণমূল কর্মীরা তেরপেখ্যায় জড়ো হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জয়ের ইঙ্গিত আসলেই ডিজে বাজতে শুরু করবে বলে কর্মীদের বক্তব্য।
ফল ঘোষণার আগের দিন রবিবার নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর বলেন, জয় নিয়ে আমাদের কোনো সংশয় নেই। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোর করে হারানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় আজও নন্দীগ্রামের মানুষ আক্ষেপ করেন। তাঁরা বদলা হিসেবে ২০২৬ সালে ভোট দিয়েছেন। সুতরাং সেই ভোটে বিজেপির বিপক্ষে যাবে। অন্তত ৩০ হাজার ভোটে আমরা নন্দীগ্রাম থেকে জিতছি।
নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের জয় কামনা করে এদিন নন্দীগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব রেয়াপাড়া শিবমন্দিরে পুজো দেন। ব্লক কোর কমিটির কনভেনার সুনীল জানা, কোর কমিটির সদস্য মহাদেব বাগ, রবিন জানা ও পুষ্পিতা গিরি সহ আরও অনেকে মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এদিন বিজেপির নন্দীগ্রাম-৪ মণ্ডলের পক্ষ থেকেও দলীয় প্রার্থীর দুই বিধানসভায় জয় কামনা করে রেয়াপাড়া শিবমন্দিরে পুজো দেওয়া হয়। মণ্ডল সভাপতি সৌমিত্র দে সহ অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের একটা বড়ো অংশ হলদিয়ায় গণনা কেন্দ্রে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়াও, দলের জয়ের আভাস পাওয়া মাত্র বয়াল, খোদামবাড়ি, কেন্দামারি-জালপাই, কালীচরণপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় ডিজে বাজিয়ে বিজয় উৎসব উদযাপন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেজন্য ডিজে বুক করা হয়েছে বলে খবর। পবিত্র করের হাত ধরেই ২০২৬ সালে নন্দীগ্রাম আবার পবিত্র হয়ে উঠবে বলে তৃণমূল কর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস।
বয়াল-১ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অনুপ পাল বলেন, আমরা জয়ের বিষয়ে একশো শতাংশ আশাবাদী। বয়াল-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেও লিড আসবে বলে স্থির বিশ্বাস। দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কর্মীরা তেরপেখ্যায় জড়ো হয়ে একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করতে চাইছেন। কর্মীদের আবেগ দেখে আমরা তাতে অনুমতি দিয়েছি। জয়ের আভাস আসার মুহূর্ত থেকেই কর্মীরা উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনায় ভাসবেন। তেরপেখ্যা ও ভেটুরিয়ার তৃণমূল কর্মীরা জানিয়েছেন, ডিজে বুক করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথামতো ডিজে বাজবে। পবিত্র করের হাত ধরে পাঁচ বছর বাদে নন্দীগ্রামের শাপমুক্তি ঘটবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। তাই বিজয় উৎসবের প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে।