• দীঘা-হাওড়া সামার স্পেশাল ট্রেন বন্ধ নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা, নিয়মিত চালুর দাবি
    বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: যাত্রীদের সুবিধার জন্য হাওড়া-দীঘা ইএমইউ স্পেশাল ট্রেন চালু করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। গত ৬এপ্রিল থেকে ৩০এপ্রিল পর্যন্ত ট্রেনটি চলাচল করে। প্রতিদিন ব্যাপক ভিড় হওয়া সত্ত্বেও ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা। ট্রেনটি নিয়মিত চালানোর দাবি তুলেছেন পাঁশকুড়া-দীঘা শাখার যাত্রী ও পর্যটকরা। এব্যাপারে দক্ষিণ পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম নিশান্ত কুমার বলেন, বিষয়টি আমরা দেখছি।

    যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে সামার স্পেশাল হিসেবে ০৮০০৩/০৮০০৪ হাওড়া-দীঘা-হাওড়া ইএমইউ ট্রেন চালু করেছিল দক্ষিণ পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। সকাল ৯টা ২৫মিনিটে ট্রেনটি হাওড়া থেকে ছেড়ে দুপুর ১টা ৪৫মিনিটে দীঘায় পৌঁছাচ্ছিল। দুপুর ৩টের সময় দীঘা থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ১০মিনিটে হাওড়া পৌঁছাচ্ছিল। ভোটের মরশুমে বহু যাত্রী দীঘা বা দীঘা থেকে তমলুক-মেচেদা বা কলকাতা যাতায়াত করছিলেন। পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল ট্রেনটি। বেশিরভাগ দিনই এই ট্রেনে প্রচুর যাত্রী দেখা গিয়েছে। প্রথম পর্বে গত ২৩এপ্রিল দুই মেদিনীপুরে ভোট থাকায় বহু পরিযায়ী শ্রমিক ও বাইরে থাকা বাসিন্দারা এই ট্রেনে হাওড়া থেকে সরাসরি বাড়ি ফেরেন। সেকারণে ভোটের আগে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। ভোটপর্ব মেটার পর অনেকে এই ট্রেনে কাজের জায়গায় ফিরেও গিয়েছেন। কিন্তু আগাম ঘোষণামতো গত ৩০এপ্রিল হাওড়া-দীঘা স্পেশাল ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের মধ্যে। পর্যাপ্ত যাত্রী হওয়া সত্ত্বেও ট্রেনটি নিয়মিত না চলায় ক্ষুব্ধ তাঁরা। 

    হেঁড়িয়া ও নাচিন্দা স্টেশনের মাঝে সম্প্রতি ঘোলবাগদা হল্ট স্টেশন চালু হয়েছে। এই স্টেশন থেকে নিয়মিত হাওড়াগামী স্পেশাল ট্রেনের যাত্রী শুভঙ্কর মাইতি বলেন, কর্মসূত্রে মেদিনীপুরে থাকি। নিয়মিত এই ট্রেনে মেচেদা হয়ে মেদিনীপুর যাতায়াত করতাম। কিন্তু ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব সমস্যা হচ্ছে। পর্যটক গীতা গুছাইত বলেন, হাওড়া থেকে সকালে তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসের রিজার্ভেশন টিকিট পাওয়া যায় না। স্পেশাল লোকাল ট্রেনটি দেওয়ায় কম ভাড়ায় দীঘা যাতায়াতে সুবিধা হচ্ছিল। আবার দুপুর ৩টেয় দীঘা থেকে ছাড়ায় সমুদ্রস্নান সেরে বাড়ি ফিরছিলেন অনেকে। 

    দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর পর্যটক সমাগম আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। অনেকেই মন্দির দেখার উৎসাহে বেড়াতে আসছেন। ভোটপর্ব মেটার পরও অনেকে দীঘা আসতে চাইছেন। কিন্তু এই শাখায় পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন। এক পর্যটক বলেন, দুপুরে কাণ্ডারী এক্সপ্রেস বেশিরভাগ দিনই সময়মতো চলে না। সেকারণে স্পেশাল ট্রেনটি নিয়মিত চালালে ভাল হয়। তবে স্পেশাল ট্রেনে টয়লেট নেই। ওই একই সময়ে হাওড়া থেকে ইএমইউ-এর বদলে মেমু ট্রেন চালালেই সুবিধা হয়। কাঁথির যাত্রী কল্যাণাশিস প্রধান বলেন, এই শাখায় তাম্রলিপ্ত সুপারফাস্ট নিয়মিত দেরি করে। সামার স্পেশাল হিসাবে লোকাল ট্রেনটি চালানো হচ্ছিল। 

    প্রচুর যাত্রী হওয়া তা সত্ত্বেও ট্রেনটি আর চালানো হয়নি। আমরা নিয়মিত অথবা অন্তত জুন মাস পর্যন্ত চালানোর দাবি জানাচ্ছি। আর এক যাত্রী বলেন, ভোটপর্ব মেটার পর অনেকে দীঘা বেড়াতে আসার পরিকল্পনা করছেন। সেইসময় এই ট্রেন বন্ধ করা ঠিক হয়নি। যাত্রীদের কথা ভেবে ফের ট্রেনটি চালানো দরকার।
  • Link to this news (বর্তমান)