ডিজে বক্স ও সবুজ আবিরে বিজয় উল্লাস, প্রস্তুত তৃণমূল
বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘অকাল দোল’-এর প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে জোড়াফুল শিবির। অপেক্ষা শুধু বেলা গড়ানোর। তাতেই স্পষ্ট হয়ে যাবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। গণনার প্রাকমুহূর্তে উৎসাহে ফুটছে প্রত্যয়ী তৃণমূল। কলকাতার ১১টি আসনেই জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত তারা। সেই মতো রবিবার রাত থেকে তাদের বিজয়োল্লাসের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কলকাতা পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সবুজ আবিরের অর্ডার গিয়েছে। গড়ে ২০-২৫ কেজি সবুজ আবির মজুত রেখেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারের মধ্যে ঘোষণা করেছিলেন, ‘ফলাফলের দিন ডিজে বাজবে।’ দলের সেনাপতির সেই বার্তা মাথায় রেখে বিজয় উৎসবে ডিজে বক্সের ব্যবস্থা করতে ভুলছেন না জোড়াফুল শিবিরের উৎসাহী কর্মী-সমর্থকরা।
গত বিধানসভা ভোটে কলকাতায় তৃণমূলের পক্ষে ফলাফল হয়েছিল ১১-০। এবারও সেই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি নিয়ে নিশ্চিত তৃণমূল। দলের সাধারণ কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি বলছেন, সকাল ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে মাঠে নামবে তৃণমূল। শুরু হবে বিজয় মিছিল। উৎসবের চেহারা নেবে চারপাশ। রাস্তার রং হয়ে যাবে সবুজ। এই উদযাপনে যাতে কোনো খামতি না থাকে, তার জন্য রবিবারই যাবতীয় উপকরণ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর মুখ্য নির্বাচনি এজেন্ট সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘১২টার পর থেকে শহরের রাস্তা সবুজ হয়ে যাবে। জয় উদযাপনের জন্য প্রচুর ব্যানার, ফ্লেক্স, পতাকা তৈরি রয়েছে। কাল ফাইনাল ম্যাচ। জিতলেই ট্রফিতে চতুর্থবারের জন্য জোড়াফুল খোদাই করা হবে।’
সূত্রের খবর, কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কোথাও দলের যুব সংগঠনের তরফে নেতা-কর্মীরা ওয়ার্ড পিছু ১৫ থেকে ২০ কেজি সবুজ আবির ‘স্টক’ করেছেন। উত্তর কলকাতার যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ‘যেভাবে ব্যাপক হারে ভোট পড়েছে, তাতেই স্পষ্ট যে মানুষ এসআইআরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ভোটবাক্সে। বহু মানুষ তো ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্কে ভোট দিয়েছেন। তাই ভোটদানের পার্সেন্টেজ বেড়েছে। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা নিশ্চিন্ত। বেলা বাড়লেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিজয় উৎসব শুরু হয়ে যাবে।’ কসবা বিধানসভার সবক’টি ওয়ার্ডে ডিজে বক্স ভাড়া করে ফেলেছে তৃণমূল। প্রায় ৩০-৩২টি ডিজে বক্স ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এন্টালিতেও একই ‘অর্ডার’ জমা পড়েছে ডেকরেটরের কাছে। তপসিয়া এলাকার ডেকরেটর গোলাম আসিফ খান বলেন, ‘যা অর্ডার আসছে, তাতে একজনের কাছে এত বক্স নেই। অন্য জায়গা থেকে ডিজে বক্স আনাতে হচ্ছে।’