কলকাতার ১১ আসন কার দখলে? উত্তর আজ, কড়া নিরাপত্তায় ৫ গণনাকেন্দ্র
বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, সোমবার রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা। তার মধ্যে কলকাতার ১১টি বিধানসভার গণনা হবে শহরের পাঁচ কেন্দ্রে। উত্তর কলকাতার সাতটি আসনের ভোট গণনা হবে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। দক্ষিণ কলকাতার চারটি কেন্দ্রের গণনা হবে পৃথক চারটি গণনাকেন্দ্রে। ‘হাইভোল্টেজ’ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা হবে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভঃ গার্লস হাইস্কুলে। পাঁচটি গণনাকেন্দ্রেই কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা করেছে কমিশন। তৈরি হয়েছে ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা বলয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন থাকছে পাঁচ জায়গাতেই।
কাশীপুর-বেলগাছিয়া, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, এন্টালি এবং মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা হবে নেতাজি ইন্ডোরে। খিদিরপুরের সেন্ট থমাস স্কুলে হবে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের ভোট গণনা। বালিগঞ্জ ও রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের গণনাকেন্দ্র করা হয়েছে যথাক্রমে বাবা সাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় ও বালিগঞ্জ গভঃ হাইস্কুলে। নেতাজি ইন্ডোরে খোলা হবে ১ হাজার ৮৩৫টির বেশি ইভিএম। এর জন্য প্রায় ১১৩টি টেবিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এই টেবিলগুলির উপরই সতর্ক নজর থাকবে বিভিন্ন দলের কাউন্টিং এজেন্টদের। জয় নিয়ে প্রবল প্রত্যয়ী তৃণমূল কংগ্রেসের সাত প্রার্থী। তবে রবিবার প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে নেতাজি ইন্ডোর সংলগ্ন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। তাঁর অভিযোগ, প্রার্থীদের দেরি করে পরিচয়পত্র দেওয়ার কারণে প্রায় ১৩ ঘণ্টা স্ট্রং রুমে কী ঘটেছে, তা দেখাই যায়নি সিকিউরিটি ব্যারিকেডের ওপারে থাকা স্ক্রিনে। ফলে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে।
আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। সূত্রের খবর, নেতাজি ইন্ডোর এবং ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র মিলিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। দক্ষিণ কলকাতার বাকি চার গণনাকেন্দ্রে মোট ২ কোম্পানি বাহিনী থাকছে। বাইরে তাঁদের সহযোগিতায় রয়েছে কলকাতা পুলিশও। কমিশন প্রদত্ত পরিচয়পত্র পরীক্ষা করেই ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। পাঁচ গণনাকেন্দ্রের ভিতর ও বাইরের দিকে সিসিটিভিতে কার্যত মুড়ে ফেলা হয়েছে। স্ট্রং রুম থেকে কাউন্টিং টেবিল পর্যন্ত ইভিএম নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বিশেষভাবে নজরদারির জন্য লাগানো হয়েছে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। সব মিলিয়ে বজ্র আঁটুনির মধ্যে চলবে গণনা। লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা এড়াতে আগাম ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে কমিশন। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা লাগু করা হয়েছে। ফলে এই এলাকায় যে কোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ।
এদিন সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী কাউন্টিং এজেন্ট সহ দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় বৈঠক করেন কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা, সন্দীপন সাহা, শ্রেয়া পান্ডে সহ তৃণমূল প্রার্থীরা। সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। দলের নির্দেশমতো পদক্ষেপ করা হয়েছে। কর্মীদের মধ্যে কারা কোথায় থাকবেন, কার কী দায়িত্ব—সব বলে দেওয়া হয়েছে।’