সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: আজ বিধানসভা নির্বাচনের ফল। ফল প্রকাশের আগে রবিবার প্রার্থীরা কেউ থাকলেন হালকা মেজাজে, কেউ ছুটলেন মন্দিরে পুজো দিতে। কেউ আবার কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন শেষ মুহূর্তের বৈঠকে। সব মিলিয়ে ফল প্রকাশের আগের দিন এক অন্য চিত্র দেখলেন রাজ্যের মানুষ। বিজেপি প্রার্থীদের মন্দিরে যাওয়াকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে ওঁরা ভগবানের কাছে ছুটছেন।
দেড় মাসের ভোট যুদ্ধ শেষ। এবার ফল। কার হিসাব মিলবে, কে কত আসন পাবে— তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। চলছে অঙ্কের হিসাব। এদিন হাওড়া গ্রামীণ জেলার বিভিন্ন বিধানসভা আসনের প্রার্থীরা ব্যস্ত থাকলেন বিভিন্ন কাজে। তবে জেলার বেশিরভাগ তৃণমূল প্রার্থী হালকা মেজাজে দিনটা কাটালেও বিজেপি প্রার্থীরা পুজো দিতে ছুটেছেন বিভিন্ন মন্দিরে। এদিন বাগনান কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরুণাভ সেন বলেন, ফল নিয়ে কোনো টেনশন নেই। কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছি। আমতা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুকান্ত পাল শনিবার রাতে কাউন্টিং সেন্টারের বাইরে কর্মীদের সঙ্গে রাত জাগার পাশাপাশি এদিন সকালে কার্যালয়ে এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী পুলক রায়কে দলের পক্ষ থেকে এবার জেলার কাউন্টিং অবজারভার করা হয়েছে। রবিবার সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঁজা অবশ্য সারাদিন হালকা মেজাজে ছিলেন। তিনি বলেন, কাউন্টিং এজেন্ট থেকে কর্মীরা সবাই প্রস্তুত আছে। তাই এইসব নিয়ে চিন্তা করছি না। অন্যদিকে, এদিন উলুবেড়িয়ার তিনটি, বাগনান, আমতা, শ্যামপুর ও উদয়নারায়ণপুরের বিজেপি প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। যদিও ফল প্রকাশের আগের দিন বিজেপি প্রার্থীদের মন্দিরে পুজো দেওয়াকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের হাওড়া গ্রামীণ জেলার আহ্বায়ক সমীর পাঁজা। তিনি বলেন, জেলার সবকটি আসনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে মিরাকলের আশায় মন্দিরে ছুটছেন বিজেপির প্রার্থীরা। বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলার সাধারণ সম্পাদক রমেশ সাঁধুখার বক্তব্য, জেলার সবক’টি আসনে বিজেপি প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত। ফল প্রকাশের পর যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যে প্রার্থীরা মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়েছেন।