• স্ক্রিনশট দেখে পরবর্তী রাউন্ডে অনুমতি কমিশনের, গণনাতেও তুঘলকি! বিলম্বের আশঙ্কা
    বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গণনাকেন্দ্রে কারচুপি আটকাতে একের পর এক পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। পূর্ববর্তী বিধানসভা ও লোকসভার কাউন্টিং সেন্টারগুলিতে এটা দেখা যায়নি। নজিরবিহীন এই পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হল প্রতিটি রাউন্ডে গণনার স্ক্রিনশট তুলতে হবে। তা পৌঁছবে দিল্লিতে কমিশনের সদর দপ্তর নির্বাচন সদনে। সেখান থেকে ছাড়পত্র মেলার পরই পরবর্তী রাউন্ডের কাউন্টিং শুরু করা যাবে। নির্দেশ এসেছে কমিশন থেকে।

    ভোটপর্বের মতো গণনা পর্বও শান্তিতে পার করতে তৎপর কমিশন। এজন্য নিয়োগ করা হয়েছে একাধিক জেনারেল অবজার্ভার। তাঁরা কাউন্টিং সেন্টারে গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখবেন। গণনাকর্মী  ঠিকমতো প্রতিটি রাউন্ড কাউন্ট করেছেন কি না সেটা দেখার জন্য থাকছেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা মোকাবিলায় পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছে। 

    কমিশন সূত্রের খবর, এবার গোটা গণনা প্রক্রিয়ার পুরোটাই নিয়ন্ত্রিত হবে দিল্লির সদর দপ্তর থেকে। পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে কমিশন জানিয়েছে, স্ট্রংরুমে বিশেষভাবে নজরদারি চালাতে হবে। কমিশন সূত্রের খবর, এবার প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে ইভিএম খোলার সময় দিল্লিতে বসে অনলাইনে সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন কমিশনের আধিকারিকরা, যাতে সঠিক পদ্ধতি মেনে ইভিএম ওপেন করা হয়। কোনো গণণাকর্মী ভুল করলে সঙ্গে সঙ্গেই 

    দিল্লি থেকে তা শুধরে দেওয়া হবে। মোট 

    প্রদত্ত ভোটসহ কোন প্রার্থী কোন রাউন্ডে কত ভোট পেলেন, তা নির্ভুলভাবে লিখতে হবে। সেই সংখ্যা ঠিক কি না যাচাই করে দেখবেন মাইক্রো অবজারর্ভাররা, যাতে তথ্যগত কোনো ফাঁক না থাকে। 

    প্রতিটি রাউন্ড শেষ হওয়ার পর তার স্ক্রিনশট তুলবেন সেখানকার কর্মীরা, যাতে মোট ভোট এবং প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ভালো করে বোঝা যায়। সেটি পাঠাতে হবে কমিশনের সদর দপ্তরে। মাইক্রো অবজার্ভারদের তালিকার সঙ্গে পাঠানো স্ক্রিনশট মিলিয়ে দেখা হবে। কোনো গরমিল ধরা পড়লে পরের রাউন্ডের গণনা শুরু করা যাবে না। নির্বাচন সদন থেকে সবুজ সংকেত না মেলা পর্যন্ত পরের রাউন্ডের গণনা শুরু করা যাবে না। 

    এই নির্দেশ আসার আগেই কেউ গণনা শুরু করলে সংশ্লিষ্ট গণনাকর্মীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণনা প্রক্রিয়াকে সমস্ত দিক থেকেই ‘ফুল প্রুফ’ করতে কমিশন এবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কোনো মহল থেকে কোনোরকম অভিযোগ তোলার অবকাশ দিতে চায় না তারা। এমনকি, গণনা নিয়ে কোনো পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে নথিসহ যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ আদালতে তুলে ধরার সমস্ত রাস্তা খোলা রাখবে কমিশন। তবে এতগুলি ছাঁকনির কারণে গণনা প্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। 

    যদিও কমিশনের দাবি, গোটা বিষয়টি এত দ্রুততার সঙ্গে করা হবে যে কোনোরকম বিলম্বেরও আশঙ্কা থাকবে না। - ফাইল চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)