হুগলিতে অঙ্ক কষেই চোদ্দতে ১৪ আসনে জয়ের দাবি শাসক শিবিরের
বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়া থেকে তারকেশ্বর— অর্থাৎ শ্রীরামপুর, চন্দননগর ও চুঁচুড়া মহকুমার ১৪টি আসনেই তৃণমূলের জয় অনিবার্য। গণনার ২৪ ঘণ্টা আগে, রবিবার চোদ্দতে ১৪ পাওয়ার দাবিতে অনড় ঘাসফুল নেতৃত্ব। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, নিখাদ বাস্তবের উপরে দাঁড়িয়েই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলও অনেকাংশে তৃণমূলের ওই দাবিকে সমর্থন করছে। তৃণমূলের অন্দরের বিশ্লেষণ, এবার প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া ছিল। কিন্তু তা ঝড়ের আকার নেয়নি। পাশাপাশি, স্থানীয় স্তরের সমীকরণের উপর ভোটদাতারা পছন্দের দল বা প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণের প্রকল্প। এমনকি, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের জেরেও ছোটো ছোটো পকেটে নাগরিকদের সমর্থন তৃণমূলের পক্ষে এসেছে।
তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, আমরা ১৪টি আসনের সম্ভাব্য ফলাফল বোঝার চেষ্টা করেছি। তাতে দেখা যাচ্ছে, সবক’টি আসনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলিতে থাকবে। যদিও বিজেপি’র সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, স্বপ্ন দেখছে তৃণমূল। সোমবার দুপুরে টের পাবে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, হুগলির লালদুর্গের হাল ফিরছে।
তৃণমূলের অন্দরের বিশ্লেষণ, স্থানীয় সমীকরণে বিরোধীদের কাছে কঠিন এলাকা ছিল হরিপাল, সিঙ্গুর, চণ্ডীতলা, জাঙ্গিপাড়া, চন্দননগর, ধনেখালি, তারকেশ্বরের মতো বিধানসভাগুলি। যেখানে নিবিড় জনসংযোগ, শাসকদলের দাপুটে সংগঠন, স্থানীয় জনবিন্যাসের কারণে তৃণমূল এগিয়ে ছিল। এই আসনগুলিতে শাসকদলের মজবুত ভোটব্যাংক বরাবর ছিল। ভোটের দিন মানুষ উজাড় করে ভোট দিয়েছেন বলেই ভোট পরবর্তী বিশ্লেষণে পাওয়া গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই বিধানসভাগুলিতে দলের তরফে প্রার্থীও বদল করা হয়নি।
আবার যে সমস্ত কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করা হয়েছে, সেখানেও ভিন্ন সমীকরণ কাজ করেছে। পাশাপাশি, ভোট পরবর্তী বিশ্লেষণে শাসকদলের পক্ষেই ভোট পড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এমনটাই দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন তৃণমূলের ভোট পর্যবেক্ষকরা। শাসকদলের এক দাপুটে নেতা বলেন, চুঁচুড়া, উত্তরপাড়া, চাঁপদানি, শ্রীরামপুরের মতো শহুরে বিধানসভা আসনে গত লোকসভা ভোটের পর থেকেই বিশেষভাবে নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাতেই পরিস্থিতি অনেকখানি আমাদের অনুকূলে এসেছে। প্রচার পর্বেও নাগরিকদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের মধ্যে দিয়ে হাওয়া ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন আমরা সেই প্রয়াসের প্রত্যাশিত ইঙ্গিত পেয়েছি। অন্যদিকে, বলাগড়, পাণ্ডুয়া এবং সপ্তগ্রামের মতো আধা গ্রামীণ-আধা শহুরে কেন্দ্রগুলিতে বরাবরই তৃণমূলের মজবুত ভোটব্যাংক আছে। স্থানীয় কিছু জটিলতা, কিছুটা ধন্দ প্রতিবারই নির্বাচনে তৈরি হয়। কিন্তু দিনের শেষে নাগরিকরা তৃণমূলকেই পছন্দ করে। গত কয়েকটি বিধানসভা ভোটে সেই ধারাতেই ভোট হয়েছে এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে, এবার ১৪টি আসন ধরে রাখার দাবি কাল্পনিক নয়, সবটাই অঙ্কের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত। দৃঢ় দাবি শাসক শিবিরের।