• ভোট মিটতেই রেলের উচ্ছেদ অভিযান বালিতে অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, পাণ্ডুয়া স্টেশন এলাকার বস্তিও গুঁড়িয়ে দিল বুলডোজার
    বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও চুঁচুড়া: ভোটের ফল ঘোষণার আগেই বুলডোজার রাজনীতির অভিযোগে সরগরম বালি। ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের বালি স্টেশন সংলগ্ন বেআইনি দোকান উচ্ছেদকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। অভিযোগ, বালি স্টেশনের দু’পাশে থাকা দোকানগুলিকে নোটিস দেওয়ার পর মাত্র দু’দিনের মধ্যেই উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে পূর্ব রেল। শনিবার রাতে বালি স্টেশন থেকে বালি হল্ট পর্যন্ত মোট ১৪৯টি অস্থায়ী দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর জেরে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর। উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙা পড়েছে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ও। এদিকে, হুগলির পাণ্ডুয়া রেলস্টেশন এলাকার বস্তিও এদিন গুঁড়িয়ে দিল রেলদপ্তর। ওই রাতেই রীতিমতো বুলডোজার চালিয়ে একের পর এক বাড়ি, দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কার্যত গোটা বস্তিকেই উচ্ছেদ করেছে রেল দপ্তর। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গৃহহীন মানুষদের অনেকে রাতেই রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। যদিও রেল পুলিশ তাণ্ডব চালিয়ে সেই বিক্ষোভ সরিয়ে দিয়েছে।

    জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে রেল কর্তৃপক্ষ বালি স্টেশন সংলগ্ন দোকান উচ্ছেদের জন্য প্রাথমিক নোটিস জারি করেছিল। সেই সময় বালি স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন দোকানদাররা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পুনর্বাসনের দাবিতে লিখিত আবেদন জানায়। এর জেরে কিছু সময়ের জন্য উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। গত ৩০ এপ্রিল রেল কর্তৃপক্ষ ফের নতুন করে নোটিস জারি করে এবং মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের জানায়, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের কাজের জন্য দ্রুত দোকান সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হবে সব দোকান। এই সতর্কবার্তার পরেই শনিবার থেকে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। রেলের বুলডোজারের সামনে একে একে ভেঙে পড়ে মোট ১৪৯টি অস্থায়ী দোকান। এর মধ্যে ছিল খাবারের দোকান, মোবাইল সারাইয়ের দোকান, ফলের স্টল, ব্যাগের দোকান— যা বহু পরিবারের একমাত্র জীবিকার উৎস। উচ্ছেদ অভিযানে রেহাই পায়নি তৃণমূলের একটি কার্যালয়ও। ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।

    এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, ভোটপর্ব চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকায় সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বুলডোজার নামিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক সহায়তার অভাবেই তারা আজ কার্যত রাস্তায় বসেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সঞ্জয় বিশ্বাস ও রথীন সরকার বলেন, ‘এই সময়কে ইচ্ছা করেই বেছে নেওয়া হয়েছে। এখন কোথায় যাব, কীভাবে সংসার চালাব, কিছুই বুঝতে পারছি না। পুনর্বাসনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

    অন্যদিকে, হাওড়া জেলা আইএনটিটিইউসির সেক্রেটারি মলয় সরকার বলেন, ‘আমরা জুন মাস পর্যন্ত সময় চেয়েছিলাম, কিন্তু তা মানা হয়নি। ইচ্ছা করেই এই সময়কে ওরা বেছে নিয়েছে ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি মারার জন্য। আমরা আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাব এবং পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করব।’ হঠাৎ এই উচ্ছেদ অভিযানে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের জীবন-জীবিকা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে।

    পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, রেল পরিষেবায় দ্রুততা আনার জন্য বেআইনি উচ্ছেদ অভিযান লাগাতার চলতে থাকে। এরজন্য বহু আগে থেকেই অনেকবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। নোটিস পাওয়ার পরেও যদি কেউ না সরেন, সেক্ষেত্রে আইনি পদ্ধতি মেনে এভাবেই উচ্ছেদ করা হয়।

    জানা গিয়েছে, ভোটের আগেই পাণ্ডুয়ায় উচ্ছেদ নোটিস দেওয়া হয়েছিল। ৩০ এপ্রিল একদিনের সময়সীমা দেওয়া হয়। তারপর শনিবার রাতে উচ্ছেদে নামে রেল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে তাঁরা সেখানে বাস করছিলেন। রেলের জমি তাঁরা ছেড়ে দিতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু বিকল্পের দাবি পেশ করেছিলেন। শেষপর্যন্ত তা না মেনে রাতের অন্ধকারেই উচ্ছেদ করা হল। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাণ্ডুয়া কোনো বিচ্ছিন্ন জায়গা নয়। সর্বত্র রেলের জমি দখলমুক্তর কাজ চলছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)