নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভোট মিটতেই বিরোধীরা যখন রাস্তা থেকে কার্যত উধাও, ঠিক সেই সময় জল জমার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বালি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র। গণনার ফলাফল নিয়ে শেষ মুহূর্তে যখন রাজনৈতিক শিবিরগুলিতে জোর তৎপরতা, তখনই মাঠে নেমে সাধারণ মানুষের সমস্যার খোঁজ নিচ্ছেন তিনি।
টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে উত্তর হাওড়া ও বালির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ছোটো-বড়ো বহু রাস্তা জলের তলায় চলে যায়। লিলুয়ার অরবিন্দনগর, মীরপাড়া এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। সেখানে জল জমায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এটি কোনো নতুন সমস্যা নয়। প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই চিত্র দেখা যায়। হাঁটু জল ঠেলে নিত্যদিন যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টির জমা জল ঢুকে পড়ছে ঘরের ভিতরেও।
এই পরিস্থিতিতে বহু বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কৈলাস মিশ্রের কাছে আবেদন জানান, রাস্তার সমস্যার মতোই জল জমার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার জন্য। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই তিনি এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আরবিন্দনগর সহ একাধিক এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তৃণমূল প্রার্থী। নীচু জায়গা থেকে দ্রুত জল নামানোর জন্য পাম্প বসানো হয়েছে বলে জানান তিনি। কৈলাশ বলেন, ‘আউটপুট পয়েন্টগুলি পরিষ্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নর্দামগুলিতে জমে থাকা পলি সরানোর জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে কেএমসির জেট কাম সাকশন মেশিন আনা হবে।’
শুধু লিলুয়া নয়, উত্তর হাওড়ার জিটি রোড, সীতানাথ বসু লেন, বিবিবাগান সহ একাধিক এলাকায় জমা জলের একই পরিস্থিতি। হাওড়া পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৮টি পাম্প চালু করা হয়েছে। বেশ কিছু জায়গা থেকে জল নামানো সম্ভব হলেও এখনও কিছু এলাকায় জল জমে রয়েছে। গণনার উত্তেজনার মাঝেও এই পরিস্থিতি যেন স্পষ্ট করে দিচ্ছে— রাজনীতির ব্যস্ততার বাইরে থেকেও মানুষের পাশে থাকা কতটা জরুরি। আর সেই জায়গাতেই সক্রিয় থাকার বার্তা দিল তৃণমূল শিবির।