• মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দেবে, কর্মস্থলে ফেরার আগে বলছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা
    বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ভোটের সময়ে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন কাকদ্বীপ, নামখানা, সাগর ও পাথরপ্রতিমার কয়েক হাজার বাসিন্দা। আর ভোট শেষ হতেই এবার তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিলেন। নির্বাচনের পরের দিন থেকেই তাঁরা কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। রবিবারও দেখা গেল সেই একই রকমের ছবি। এদিন সকাল থেকে দূরপাল্লার বাস ও ট্রেনে ছিল ব্যাপক ভিড়। সবার কাছেই ছিল বড় বড় ব্যাগ। ভিড় ঠেলে সবাই কর্মস্থলে ফিরে যেতে ব্যস্ত ছিলেন।

    এদিকে, সোমবার সকালেই শুরু হবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের গণনা পর্ব। কিন্তু সেই গণনা নিয়ে তাঁদের কারও মাথাব্যথা নেই। তাঁদের দাবি, পরিযায়ী তকমা নিয়েই তাঁদের জীবন যাপন করতে হবে। নির্বাচনের সময় রাজ্যে ভোট দিতে এলে কর্মস্থলের বন্ধুরা তাঁদের পরিযায়ী ভোটার বলেন। আর ভোট দিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সময় রাজ্যের বাসিন্দারা তাঁদের পরিযায়ী শ্রমিক বলেন। তবে এই নিয়ে তাঁদের কারও দুঃখ নেই। পাশাপাশি তাঁরা রাজ্যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার পক্ষেই সুর তুললেন। তাঁদের বিশ্বাস, চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন।

    রবিবার কাকদ্বীপ স্টেশনে ট্রেন ধরার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন পাথরপ্রতিমার বাসিন্দা সোমনাথ মাইতি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাগর ও নামখানা এলাকার প্রায় জনা দশেক যুবক। সবাই একই সুরে বললেন, এবারও মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কেন? প্রশ্ন করতেই সোমনাথ মাইতি বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে কেরলের একটি দোকানে কর্মচারী হিসাবে কাজ করি। আর পাথরপ্রতিমার বাড়িতে পরিবারের সবাই থাকেন। কোনওদিন কোনও সমস্যা হয়নি। এখানে সবাই শান্তিতেই বাস করেন। এই কারণে আমরাও ভিন রাজ্যে গিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারি। এছাড়া গ্রামেও প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। ছ’ মাস পর বাড়িতে ফিরলেই উন্নয়নের ছবিটা পরিষ্কার বোঝা যায়। তাই ভোট দিতে আসি, কিন্তু ফলাফল নিয়ে ভাবি না। কারণ মানুষ শান্তিশৃঙ্খলা ও রাজ্যের উন্নয়নের পক্ষেই রায়দান করবে।
  • Link to this news (বর্তমান)