বিজয় উৎসবের আগাম প্রস্তুতি বারাসতে রেকর্ড জমায়েতের পরিকল্পনা তৃণমূলের
বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্রচারের উত্তাপ ম্লান হতেই শুরু গণনাকে ঘিরে স্নায়ুর টানটান লড়াই। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। কিন্তু তার অনেক আগেই, ভোর ৫টা থেকে কাউন্টিং সেন্টার ঘিরে কার্যত ‘দখলদারি’র লড়াইয়ে নামতে চলেছে শাসক ও বিরোধী সব শিবির। এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ কেউই। দলীয় নির্দেশে তৃণমূল, বিজেপি, বাম জোট থেকে আইএসএফ— সবপক্ষই তাদের কাউন্টিং এজেন্টদের ভোরের মধ্যে সেন্টারে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। লক্ষ্য স্পষ্ট, কোনো ফাঁকই যেন না থাকে। শুধু এজেন্টদের সেন্টারের ভিতরে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করানোই নয়, গণনা কেন্দ্রগুলির ৩০০ মিটারের বাইরে দলীয় কর্মীদের বড়ো জমায়েত করার পরিকল্পনাও ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত। ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রের গণনাকে ঘিরে তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে গণনা হবে বারাসত, হাবড়া, অশোকনগর ও দেগঙ্গা কেন্দ্রের। পাশে বারাসত গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে গণনা হবে মধ্যমগ্রাম ও আমডাঙার।
তৃণমূল এই ছ’টি কেন্দ্রের গণনার পর্যবেক্ষক করেছে মধ্যমগ্রামের প্রার্থী তথা বিদায়ী খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে। দলীয় সূত্রে খবর, রথীন ঘোষ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ভোর ৫টার মধ্যে সব কাউন্টিং এজেন্টকে সেন্টারে পৌঁছাতে হবে। তিনি নিজেও সেই সময়ের মধ্যে বারাসতের গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। রথীনের কথায়, দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করব। এজেন্টদের সেন্টারের ভিতরে ঢোকানোই প্রথম কাজ। সবাইকে বলা হয়েছে দলনেত্রীর নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কেউ সেন্টার ছাড়বেন না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে কেএনসি রোডে দলীয় কার্যালয় এবং পুলিশের ব্যারিকেডের বাইরে কয়েক হাজার কর্মীকে জমায়েত করতে বলা হয়েছে। ফলে গণনার দিন সকাল থেকেই ওই এলাকায় কার্যত শক্তি প্রদর্শনের ছবি দেখা যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
একই রকম প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী শিবিরও। বিজেপি, বাম জোট ও আইএসএফ—কেউই গণনায় কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। বিজেপির জেলা নেতৃত্ব ভোর ৫টার মধ্যে কাউন্টিং এজেন্টদের সেন্টারে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য প্রতিটি টেবিল, প্রতিটি রাউন্ডে কড়া নজর রাখা। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে বৈঠক করেন বারাসতের বিজেপি প্রার্থী শংকর চট্টোপাধ্যায়। সেখানে গণনার প্রতিটি ধাপ, প্রতিটি রাউন্ডে কীভাবে নজর রাখতে হবে, তার খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শংকরের কথায়, জয় আমার নিশ্চিত। তাই গণনা নিয়ে দলের নির্দেশ সবাইকে বোঝানো হয়েছে। এদিকে, সীমান্তের জেলা বসিরহাটেও তৎপর উভয় শিবির। কাউন্টিং সেন্টার থেকে জমায়েত— সবটাই একছন্দে করছে শাসক ও বিরোধীরা। বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র বলেন, বিজেপি বহিরাগতদের এনে এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। মানুষকে অযথা ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, ভয়ে ভুল বকছে তৃণমূল।
এদিকে ফরওয়ার্ড ব্লকের উত্তর ২৪ পরগনার জেলার সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, সকাল সাড়ে ৬টায় চাঁপাডালি মোড়ে পার্টি অফিসে এজেন্টদের রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে তাঁরা একসঙ্গে সেন্টারে যাবেন। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ একটুও কমেনি। বরং গণনাকে ঘিরে তা আরও ঘনীভূত। সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া গণনাই ঠিক করবে জনমত কোনদিকে ঝুঁকল। এখন কার্যত স্নায়ুর লড়াইয়ে মুখোমুখি শাসক ও বিরোধী শিবির।