নির্বাচনি বর্জ্য সরাতে টাস্ক ফোর্স গঠনের দাবি, দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলিরই, মত পুরসভার
বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত দেড় থেকে দু’মাসে শহর ছেয়ে গিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছোটো-বড়ো ব্যানার, হোর্ডিং, পোস্টার ও দেওয়াল লিখনে। অনেকক্ষেত্রেই উচ্চকিত প্রচার ঢেকে দিয়েছে তিলোত্তমা কলকাতার সৌন্দর্য। এখন ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে গিয়েছে। তাই সেসব ব্যানার, হোর্ডিং ও দেওয়াল লিখন এক মাসের মধ্যে সরিয়ে বা মুছে ফেলতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের দাবি তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার বিশ্বরূপ দে। সম্প্রতি পুরসভার মাসিক অধিবেশনে এই প্রস্তাব রাখেন তিনি। যদিও পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দায়িত্ব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকেই নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে শহরে ভোট প্রচারে দেওয়াল লিখন নিষিদ্ধ করার জন্য নির্দেশিকা জারির দাবিও তোলেন তিনি। পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার তখন বলেন, ‘দেওয়াল লিখন একটা ঐতিহ্য।’ এই যুক্তিতেই বিশ্বরূপবাবুর দেওয়াল লিখন সংক্রান্ত প্রস্তাব খারিজ করে দেন তিনি। রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিসবাবু বলেন, ‘ভোট হল উৎসব। দেওয়াল রঙিন হবেই।’
শহরজুড়ে বড়ো রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলি, যেদিকে তাকানো যায়, শুধুই রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের হাসি মুখের হাতজোড় করা ছবি। ব্যানারে, দেওয়ালে হরেক প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। সেই সঙ্গে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ দলীয় পতাকা। কিন্তু ভোট মিটলেও এসব কিছুই সরানো হয় না। সেগুলি কার্যত নির্বাচনি বর্জ্যে পরিণত হয়। এই অবস্থা থেকে কলকাতাকে তার স্বাভাবিক ও সুন্দর রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বউবাজার অঞ্চলের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বরূপ দে। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানার, পোস্টার ও দেওয়াল লিখনে ভরে গিয়েছে কলকাতা শহর। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির দেওয়ালগুলি নষ্ট হয়ে যায়। সেই কারণে কিছু নাগরিক বিরক্তিও প্রকাশ করেন। বর্তমান যুগে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রচারেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে হাইটেক প্রচার এখন বেশি করে মানুষের মনকে আন্দোলিত করে। তাই আমাদের উচিত, প্রচারের পুরানো ধ্যানধারণা বর্জন করা।’ তাঁর দাবি, ‘এই নির্বাচন শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে কলকাতার পুরসভা একটি বিশেষ টাস্ক় ফোর্স গঠন করুক। যাদের কাজ হবে কলকাতা শহরকে ভোটের ব্যানার, পোস্টার থেকে মুক্ত করা। সেই সঙ্গে কলকাতা পুরসভা একটি নির্দেশিকা জারি করুক, যাতে শহরে দেওয়াল লিখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়।’ এই প্রসঙ্গেই দেবাশিস কুমার বলেন, ‘ভোট একটা গণতান্ত্রিক উৎসব। ভোটের ঐতিহ্য তার পোস্টারিং, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়াল লিখন। এগুলি বাংলার সংস্কৃতি বলা যেতে পারে। না হলে ভোট হচ্ছে বলে মনেই হবে না! তবে ভোট মিটলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উচিত তাদের প্রচারগুলি ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলা। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা অনেকেই নিজস্ব অঞ্চলে ভোটের পর পোস্টার, ব্যানার, পতাকা সরিয়ে ফেলি। অন্যান্য দলেরও সেটা করা উচিত।’