• নোয়াপাড়া কেন্দ্রের গুচ্ছ ভিভিপ্যাট স্লিপ গড়াগড়ি খেল বহু দূরে নীলগঞ্জের রাস্তায়! ফের প্রশ্নের মুখে কমিশনের বজ্র আঁটুনি
    বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও বরানগর: ভোটের প্রচারের উত্তাপ থেমেছে। এখন চোখ গণনার দিকে। আর সেই আবহেই রবিবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে। সেখান থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে নীলগঞ্জের সুভাষনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হল একাধিক ভিভিপ্যাট। গণনার মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে এমন ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ল নিরাপত্তা ও নির্বাচনি প্রক্রিয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম রাস্তার ধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভিভিপ্যাটগুলি দেখতে পান। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ভিড় জমে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া প্যাটগুলির মধ্যে বিজেপি, সিপিএম ও তৃণমূল—তিন রাজনৈতিক দলেরই প্যাট ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্যাটগুলি উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তবে নির্বাচন-সংক্রান্ত এত গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী কেন্দ্র থেকে এত দূরে কীভাবে এসে পড়ল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। গণনার আগে এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে স্থানীয় মহল। নোয়াপাড়ার সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ভিপিপ্যাটের স্লিপগুলি মক পোলের নয়। সেগুলি গারুলিয়া হিন্দি ফ্রি প্রাইমারি স্কুল ২৯ নম্বর বুথের। বেশিরভাগ স্লিপ আমার। ভয়ংকর ঘটনা। বড়ো ষড়যন্ত্র হয়েছে। কমিশনকে অভিযোগ জানানো হয়েছে।’ বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং বলেন, ‘বিষয়টি রহস্যজনক! নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাব।’ অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া ভিপিপ্যাটের স্লিপগুলির বেশিরভাগই আমার সমর্থনে। তারপরে সিপিএমের। কীভাবে আমাদের কেন্দ্রের ভিপিপ্যাটের স্লিপ এত দূরে এল সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। বিজেপির কারসাজি বলেই আমারা মনে হচ্ছে। এই ব্যাপারে কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে।’ এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক তথা জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া বলেন, ‘খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্যাটগুলি কীভাবে সেখানে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হচ্ছে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)