• আজ বাংলা সহ ৫ রাজ্যের ফল, রাষ্ট্রশক্তির ৫০ দিনের তুঘলকির অবসান, ‘যুদ্ধ’ শেষে স্বস্তির অপেক্ষা
    বর্তমান | ০৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: আজ অপেক্ষা গণনার। নির্ঘণ্ট ঘোষণার মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ১৫ মার্চ। তারপর থেকে পাঁচ রাজ্যে মোট ৮২৩ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভাগ্যপরীক্ষা হয়েছে ৮ হাজার ৯০৪ জন প্রার্থীর। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ। এর মধ্যে গোটা দেশের নজর বাংলার দিকে। কারণ এই একটি রাজ্যের ভোটই হয়ে গিয়েছে এখন মর্যাদার লড়াই। একদিকে বিজেপি এবং গোটা রাষ্ট্রশক্তি। আর একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। একদিকে ৫০ দিনের তুঘলকি, অন্যদিকে নার্ভ ধরে রাখার লড়াই। ছ’মাস ধরে এসআইআরের নামে সাধারণ ভোটারদের তুমুল হয়রানি, শত শত বদলি করে প্রশাসনিক ব্যবস্থাটাকেই নড়বড়ে করে দেওয়া, তারপর আড়াই লক্ষ আধাসেনা নামিয়ে যুদ্ধ-পরিস্থিতি তৈরি করে ভোট। এছাড়া গণনা নিয়েও শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বজ্র আঁটুনি। রাজ্যের ৭৭টি কেন্দ্রে গণনা। আর প্রত্যেক কেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। প্রথম স্তরে পুলিশের লাঠিধারী বাহিনী ও সার্জেন্টরা। দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ-আধাসেনার যৌথ মোতায়েন। এবং তৃতীয় তথা সবচেয়ে সুরক্ষিত বলয়ে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই তিনটি স্তর পেরিয়েই গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। ২০০ মিটারের মধ্যে কার্যকর থাকবে বিএনএসের ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪)। অর্থাৎ, কোনো জমায়েত গণনাকেন্দ্রের ধারকাছে বরদাস্ত করা হবে না। গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখতে প্রতিটি গণনাকেন্দ্র ও তার ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। গণনাকর্মী, সরকারি কর্মী, প্রার্থী বা কাউন্টিং এজেন্ট—সকলকেই ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে ঢুকতে হবে। তারপর আর কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। কাউন্টিং এজেন্টদের ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা। তাঁদের পরিচয়পত্রে যুক্ত করা হয়েছে কিউআর কোড। সেই কোড স্ক্যান করবেন কমিশনের আধিকারিকেরা। সব তথ্য মিললে পাওয়া যাবে ভিতরে ঢোকার অনুমতি। অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনের শেষ কামড়। গণনা ‘সুষ্ঠু’ ও ‘নিরপেক্ষ’ করতে। গোটা দেশের নজর তাই বাংলাতেই। 

    আজ অপেক্ষা ফল ঘোষণার।

    সকালে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তাঁর অনুমোদিত এজেন্টদের উপস্থিতিতে স্ট্রং রুমের সিল খোলা হবে। সেখানে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং অবজার্ভার, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। স্ট্রং রুম খোলার পর প্রথমে বের করা হবে পোস্টাল ব্যালট। সকাল ৮টা থেকে সেগুলির গণনা চলবে আলাদা কক্ষে। ৮টা ৩০ মিনিট থেকে একে একে ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট এনে গণনা টেবিলে রাখা হবে। ন্যূনতম ১৪ রাউন্ড গণনা হবেই। তারপর বিধানসভার আয়তন অনুযায়ী রাউন্ড ঠিক হবে। হিসাব মতো সর্বাধিক ২৮ রাউন্ড গণনা হতে পারে। সবচেয়ে বড়ো পরিবর্তন হয়েছে ফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায়। প্রতি রাউন্ডের ফল প্রথমে ট্যাবুলেশন টেবিলে পাঠানো হবে। সেখানে হিসাব মেলানোর পর তা যাচাই করবেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার। এরপর প্রথমে সই করবেন রিটার্নিং অফিসার, তারপর কাউন্টিং অবজার্ভার। সেই পর্যন্ত ফল বাইরে জানানো যাবে না। উপরন্তু প্রত্যেক রাউন্ডের শেষে স্ক্রিনশট তুলে পাঠাতে হবে কমিশনে। সবুজ সংকেত মিললে শুরু হবে পরবর্তী রাউন্ড। অবজার্ভারের সইয়ের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা হবে এবং একই সঙ্গে তা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড হবে। সব শেষে ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালটের মোট ফল যোগ করেই ঘোষণা হবে জয়ী প্রার্থীর নাম। পশ্চিমবঙ্গের ২ হাজার ৯২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে শিকে ছিঁড়বে মাত্র ২৯৩ জনের। ফলতায় যেহেতু আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন, ওই একটি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা স্থগিত থাকছে। বাংলার পাশাপাশি বাকি চার রাজ্যের ফল ঘোষণাও হবে আজ, সোমবার। এছাড়া কর্ণাটকের বাগালকোট এবং দেবনাগরে-দক্ষিণ, ত্রিপুরার ধর্মনগর, মহারাষ্ট্রের বারামতী এবং রাহুরি, গুজরাতের উমরেত, গোয়ার পণ্ডা, নাগাল্যান্ডের কোরিডাংয়ের বিধানসভার উপনির্বাচনেরও আজ গণনা। তবে কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল ঘোষণা হতে পারে সবার শেষে। নিজের ‘মনের মতো’ ভোট করানো জ্ঞানেশ কুমারের কাছে বাংলাই সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। চূড়ান্ত ভোটার হয়রানি ব্যুমেরাং হয়নি তো? বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের সরিয়ে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ বাংলায় প্রচারের যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তাঁদের এই মরিয়া প্রচেষ্টার পরও বিজেপি দাঁত ফোটানোর মতো অবস্থায় যেতে পারবে কি? এসআইআর পর্বের শুরু থেকেই বাংলার মানুষ দেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে থাকতে। লড়াই করতে। তাঁর এই লড়াইকে বাংলা কি আজ কুর্নিশ জানাবে?

    আজ অপেক্ষা উত্তরের। প্রত্যাবর্তনেরও!
  • Link to this news (বর্তমান)