• ভোট মিটলেও দুর্ভোগ বহাল, বাস পরিষেবা স্বাভাবিক কবে থেকে?
    এই সময় | ০৪ মে ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, গত বুধবার, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ মিটেছে। যদিও শহরের পরিবহণ ব্যবস্থা এখনই স্বাভাবিক হওয়ার কোনও লক্ষণই নেই।

    বেসরকারি বাস মালিক সংগঠন এবং সরকারি পরিবহণ নিগম সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের কাজ মিটিয়ে বাস ফিরতে শুরু করলেও, কাল, মঙ্গলবারের আগে বাস পরিষেবা স্বাভাবিক হবে না। বাসের এই অভাবের কারণে অফিসযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ — সকলকেই ভিড়ে ঠাসা মেট্রোর উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে।

    পরিবহণ দপ্তর সূত্রে খবর, অন্য বারের তুলনায় এ বারের নির্বাচনে নিরাপত্তার খাতিরে অড়েক বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর আসায় বাসের চাহিদা ছিল বিপুল। ৯০ শতাংশের কাছাকাছি বেসরকারি বাস রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। একই অবস্থা অ্যাপ-ক্যাবেরও। মহানগরের রাস্তায় যেখানে দিনে ২৫ হাজার অ্যাপ-ক্যাব চলে, সেখানে প্রায় ২২ হাজার গাড়ি তুলে নেওয়া হয়েছিল। ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই গন্তব্যে পৌঁছতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।

    কেন এখনও রাস্তায় বাসের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়? বাস মালিকদের একাংশের মতে, বুথে ভোটকর্মী পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ হলেও বাহিনীর রুট মার্চ এবং সংবেদনশীল এলাকায় টহলদারির জন্য প্রচুর বাস এখনও আটকে রাখা হয়েছে। অল বেঙ্গল বাস ও মিনিবাস সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘বাস ফিরতে শুরু করলেও ১ মে শ্রম দিবসের ছুটি (শুক্রবার) এবং এর পরেই (শনি ও রবিবার) থাকায় চালক ও খালাসিদের একটা বড় অংশ কাজে ফেরেননি। সোমবারেও ভোটের ফলাফল ঘোষণার জন্য বাস পরিষেবা অনিশ্চিত। ফলে সব বাস মঙ্গলবার ছাড়া রাস্তায় নামানো সম্ভব নয়।’ মঙ্গলবার থেকে অ্যাপ-ক্যাব পরিষেবাও স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে ক্যাব সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

    পরিস্থিতি তথৈবচ সরকারি পরিবহণের ক্ষেত্রেও। রাজ্য পরিবহণ নিগম এবং বিভিন্ন নিগম থেকে প্রায় ৭০০টি বাস নেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে কলকাতার ৪৩০টি বাস রয়েছে। দূরপাল্লার রুটে এই বাসের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। পরিবহণ দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, সোমবার কাউন্টিং শেষ হওয়ার আগে নিরাপত্তা বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত বাসগুলি হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। শুধু তাই নয়, বহু চালক প্রায় দেড় মাস ধরে বাড়ি ছাড়া। কাউন্টিং মিটলে তাঁরাও ছুটিতে যেতে পারেন। ফলে সার্বিক পরিবহণ ব্যবস্থা ঠিক হতে এখনও দু–তিনদিন লাগবে।

  • Link to this news (এই সময়)