• ‘বিরোধীরা EC, বিচার বিভাগকে আক্রমণ করছে’, তোপ রিজিজুর
    এই সময় | ০৪ মে ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের অস্ত্রই যেন বিরোধীদের ফিরিয়ে দিয়ে তাদের ঘায়েল করার চেষ্টা করলেন কিরেন রিজিজু। বাংলা–সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর আগের দিন, রবিবার সংসদীয় বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজুর এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট— ‘সব ক’টি বিরোধী দল সরকারি সংস্থা, ইভিএম, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যমকে আক্রমণ করেছে৷ এখন বিচার বিভাগকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে৷ এরা বুঝতে পারছে না যে, এরা আসলে ভারতীয় গণতন্ত্রের মূলে আঘাত হানছে৷ অপেক্ষা করুন, ভারতের জনগণ এদের উপযুক্ত জবাব দেবে, সারা জীবনের জন্য শিক্ষা দেবে৷’

    রিজিজুর এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগেই বাংলার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথের সব ক’টিতেই পুনর্নির্বাচন হবে বলে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন ঘোষণা করেছে। কমিশনের রিপোর্টেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট প্রক্রিয়ায় যে গুচ্ছ ফাঁকফোঁকরের কথা উঠে এসেছে, তাতে প্রশ্ন উঠেছে কমিশন নিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসার, জেনারেল অবজ়ার্ভার, মাইক্রো অবজ়ার্ভার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাংশের ভূমিকা নিয়েও।

    রিজিজু অবশ্য তাঁর পোস্টে ফলতা বা পশ্চিমবঙ্গের কথা উল্লেখ করেননি। তবে রিজিজুর পোস্টের পাল্টা কংগ্রেসের মুখপাত্র সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, ‘সারা দেশ জানে, কারা গণতন্ত্রের মূলে আঘাত করছে, কারা কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার করছে৷’ এই প্রসঙ্গে ফলতার পুনর্বির্বাচনের সিদ্ধান্তকে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা বলেও রাজপুত দাবি করেন৷ রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) বর্ষীয়ান সাংসদ মনোজ ঝায়ের বক্তব্য, ‘আমরা বাংলায় ভোট হতে দেখিনি, মনে হচ্ছিল বাংলায় যুদ্ধ হচ্ছে৷ এত আয়োজন, এত সুরক্ষার পরেও ফলতায় যে ভাবে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে৷’

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু এক্স হ্যান্ডলে এমন একটা সময়ে পোস্ট করলেন, যখন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং তার আগে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (‘সার’) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে কাজ করার সরাসরি অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। শুধু তা–ই নয়, বিজেপি বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আধিপত্য কায়েম করেছে এবং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য পুরোপুরি নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করছে সেগুলিকে।

    বিরোধী শিবির সূত্রের দাবি, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে এই মে মাসেই তারা বৈঠক করতে পারে৷ বিজেপি তথা মোদী সরকারের বিরোধিতায় আগামী দিনে কোন পথে এগোনো হবে, তার রূপরেখা তৈরির জন্য দিল্লিতে হতে পারে এই বৈঠক৷ আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ ও পাঞ্জাবের বিধানসভা ভোটের জন্য বিরোধী শিবিরের প্রাথমিক রণকৌশল এই বৈঠকে ঠিক হতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)