• ফলের আগেই মিষ্টির বরাত, ভোট সৌজন্যে লক্ষ্মীলাভ ব্যবসায়ীদের
    এই সময় | ০৪ মে ২০২৬
  • এই সময়, কোলাঘাট ও ঝাড়গ্রাম: ভোটের ফল কোন দলের পক্ষে ভাবে। কে শেষ হাসি হাসবে, সে সব নিয়ে সব দলের চিন্তা তো রয়েইছে। কিন্তু জেতার সুখবর পেলে দলের প্রার্থী থেকে কর্মী-সমর্থক, যাঁরা এতদিন ধরে দলের হয়ে ভোটের কাজ করেছেন, তাঁদের তো মিষ্টিমুখ করাতে হবে। আর তাই ভোট গণনার আগে বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে মিষ্টির প্ররাত দিতে কার্পণ্য করেনি কোনও ব্রাজনৈতিক দল। ভোটবাজারে মিষ্টির ভালো বরাত পাওয়ায় দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদেরও। হাসিমুখ মিষ্টি বিক্রেতাদেরও।

    গত ১৫ মার্চ রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়। তারপরে রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলে ভোটের প্রচার শুরু হয়। ভোট পর্বে টানা প্রায় দেড় মাস মিষ্টির ব্যাপক চাহিদা ছিল। রাজনৈতিক দলগুলির মিটিং, মিছিল, সমাবেশে মিষ্টির জোগান দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হয়েছিল মিষ্টি বিক্রেতাদের। শেষ পর্বে গণনায় জয়ের আশায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফেও আগাম মিষ্টির প্ররাত দেওয়া হয়েছে। পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সিন্টু সেনাপতি বলেন, 'প্রতিটি বিধানসভা এলাকাতেই আমরা মিষ্টির বরাত দিয়েছি।' তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিতকুমার রায় বলেন, 'সব এলাকাতেই দলের কর্মী-সমর্থকদের জন্য মিষ্টির অর্ডার দেওয়া হয়েছে। মিষ্টি ছাড়া কি আনন্দ উপভোগ করা যায়!'

    কোলাঘাটের এক মিষ্টি ব্যবসায়ী বলেন, 'ভোট প্রচারের সময়ে এক দিনে লক্ষ টাকারও মিষ্টি বিক্রি করেছি। আশা করছি, গণনার দিনে বিক্রি আরও বাড়বে।' তমলুকের এক মিষ্টি বিক্রেতার গলাতেও এক সুর। পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন সমিতির পূর্ব মেদিনীপুর জেলা উপদেষ্টা সরোজ জানা বলেন, 'ভোট চলাকালীন জেলা জুড়ে মিষ্টি বিক্রির পরিমাণ যথেষ্ট ভালো। আশা করছি, গণনার দিনেও প্রচুর মিষ্টি বিক্রি হবে। ইতিমধ্যে আমরা অনেক বরাত পেয়েছি।'

    অন্যদিকে ঝাড়গ্রামে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সেখানে মিষ্টির দোকানে কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে কোনও মিষ্টির অর্ডার আসেনি বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন মিষ্টি বিক্রেতা। গত নির্বাচনে কিন্তু ছবিটা অন্য রকম ছিল বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।

    ঝাড়গ্রাম শহরের পাঁচ মাথার মোড় সংলগ্ন মিষ্টি দোকানের মালিক সৌমেন ভৌমিক বলেন, 'প্রতিবার ভোটের ফলাফলের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কয়েক হাজার মিষ্টি তৈরি অর্ডার দিয়ে থাকে। এ বার আর কোনও রাজনৈতিক দলের থেকে সে ভাবে মিষ্টির অর্ডার আসেন।' ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবা এলাকার এক মিষ্টি বিক্রেতা বলেন, 'কোনও রাজনৈতিক দলের থেকে মিষ্টি তৈরির অর্ডার আসেনি এ বার।'

  • Link to this news (এই সময়)