• নির্বাচনের ফল নিয়ে টেনশনে আগেই ঘরমুখো পর্যটকরা
    এই সময় | ০৪ মে ২০২৬
  • সোমনাথ মাইতি, দিঘা

    ভোটের কারণে ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল সৈকত শহর। পর্যটকরা প্রয যাঁর বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। কারণ ভোট-মরশুমে দিঘায় থাকলেও হোটেল থেকে বাইরে প্রবরতে বারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২৩ এপ্রিল ভোট মিটতেই ১ মে এ সপ্তাহান্তের ছুটিতে ভিড় উপচে পড়েছিল দিঘায়। কিন্তু আজ, সোমবার ভোটের ফল ঘোষণার আগে গতকাল থেকেই ঘরমুখো হতে শুরু করেন পর্যটকেরা। রবিবার বিকেলের মধ্যে কার্যত ফাঁকা হয়ে যায় সৈকত।

    পর্যটন শিল্পে যুক্তদের কয়েক জন বলেন, 'ভোটের জন্য পর্যটকরা ফিরে যাওয়ায় ব্যবসার ক্ষতি তো হয়েছিলই। কিন্তু ভোট মিটতেই ১ মে'র ছুটি কাটাতে এসেছিলেন পর্যটকরা। কিন্তু ভোটগণনার কারণে আবার দিঘা ফাঁকা।' তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, কোনও অশান্তি তাঁরা চান না। ভোট যেমন শান্তিতে মিটেছে। তেমনই যেন ফল ঘোষণার পরেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকে দিঘায়।

    হোটেল মালিক থেকে রেস্তোরাঁ, ছোটখাটো দোকানদার সবারই এক কথা, 'আমরা দিঘার পর্যটন শিল্পের উন্নতি চাই। যে দলই আসুক না কেন, যেন দিঘার উন্নতি হয়।' এক হোটেল মালিকের কথায়, 'জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে দিঘাকে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ঠিকই। পার্ক-সহ বিনোদনের জায়গাগুলি সাজানোর জন্য সরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে পর্যটকদের পকেটে টান পড়ছে। কারণ, টিকিট কেটে তাঁদের সেই জায়গা ঘুরতে হয়।' রয়েছে অভিযোগও। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ, উন্নয়নে তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দিঘা শহরের প্রধান রাস্তা ঝাঁ চকচকে করা হলেও কোনও কাজ হয়নি শহরের ভিতরের রাস্তার। নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি এখনও।

    দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, 'রাজনৈতিক টানাপড়েনে পর্যটক কমেছে সৈকতের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে। আমারা চাই নির্বাচনের ফলের কোনও প্রভাব যেন দিঘার পর্যটনে না। পড়ে।' নিউ দিঘা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অশোক চন্দ বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার যে উন্নয়ন করেছেন তার ফল দিঘার মানুষ পাচ্ছেন। আমাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস আলাদা আলাদা হলেও দিঘার উন্নয়নে জন্য আমরা এককাট্টা।' শুধু হোটেল মালিকরা নন, পর্যটকরাও চাইছেন না রাজ্য-রাজনীতির আঁচ সৈকতের পর্যটনে পড়ুক। রবিবার বিকেলে কলকাতা ফিরে যাওয়ার আগে এক পর্যটকের কথায়, 'রাজনীতির কচকচানি শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। বন্ধুদের সঙ্গে দু'দিন একটু ঘুরে গেলাম।' পরিবার নিয়ে বর্ধমান থেকে দিঘা বেড়াতে আসা কঙ্কনা মল্লিক বলেন, 'আমরা চাই, যারাই ক্ষমতায় আসুক তারা যেন দিঘাকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্য উদ্যোগী হয়।'

  • Link to this news (এই সময়)