বোলপুর সোনাঝুরি জঙ্গলে গাছ কাটার অভিযোগ। ক্ষোভে ফুঁসছে শান্তিনিকেতন। রাতে গাছ উধাও! ২০-২৫টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরিবেশ আদালতে মামলা চলাকালীনই নতুন করে গাছ নিধনে বাড়ল জটিলতা। উল্লেখ্য, জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সোনাঝুরি জঙ্গলে একাধিক গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। যে জঙ্গলকে কেন্দ্র করে প্রতি সপ্তাহে বসে বিখ্যাত খোয়াই হস্তশিল্পের হাট, সেই হাট সংলগ্ন এলাকাতেই নির্বিচারে গাছ কাটার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। জানা গিয়েছে, প্রায় ২০ থেকে ২৫টি সোনাঝুরি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবেশপ্রেমী ও হাটের ব্যবসায়ীরা। শান্তিনিকেতনের এই জঙ্গল এলাকা বনদপ্তরের অধীনস্থ। জঙ্গল রক্ষায় বনরক্ষী ও পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত সংখ্যক গাছ কেটে ফেলা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এলাকায় শান্তিনিকেতন থানার পক্ষ থেকেও একটি পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ রয়েছে। হাটের ব্যবসায়ী তন্ময় মিত্র বলেন, “এই জঙ্গল ও পরিবেশই পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। আমরা হাটে বসে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু কারা গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। এর প্রভাব সরাসরি আমাদের ব্যবসার উপর পড়বে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হস্তশিল্পীদের কথায়, “রাতের অন্ধকারে জঙ্গলের ভেতর এবং সংলগ্ন কিছু বেসরকারি রিসোর্ট এলাকার আশপাশ থেকেও গাছ কাটা হচ্ছে।”
পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত জানান, “গাছ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, জীবনের মৌলিক ভিত্তি গড়ে তোলে। অক্সিজেন সরবরাহ থেকে জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা সব ক্ষেত্রেই ভূমিকা অপরিসীম। এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটতে থাকলে তা একসময় মানব অস্তিত্বের উপরই মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।” উল্লেখ্য, সোনাঝুরি হাটকে নিয়ে ইতিমধ্যে একটি মামলা হয়েছে।
যদিও বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।