ব্লু লাইনে ব্যস্ত সময়ে দুই মেট্রোর ব্যবধান আড়াই মিনিট করার পরিকল্পনা নিয়েছে রেলমন্ত্রক। সেই ব্যবস্থাপনা করতে কলকাতা মেট্রোর পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হবে। কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইন বা উত্তর-দক্ষিণ শাখার (দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম) পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য ৬৭১ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মেট্রোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি তৈরি করা হবে সাতটি ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, অক্সিলিয়ারি সাবস্টেশন এছাড়াও অনেককিছু।
রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতা মেট্রোর লাইনের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ-সহ প্রস্তাবিত পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করলেই আড়াই মিনিট অন্তর মেট্রো চালানো সম্ভব হবে। ব্যস্ত সময়ে দু’টি মেট্রো পরিষেবার মধ্যে বর্তমানে ব্যবধান পাঁচ মিনিট। দিনের অন্য সময়ে সেই ব্যবধান সাত মিনিটও হয়। কখনও ১০ মিনিটও। তবে ভারতীয় রেল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কলকাতায় দুই মেট্রো পরিষেবার মধ্যে ব্যবধানের সময় কমিয়ে অর্ধেক করা হবে। অর্থাৎ, আড়াই মিনিট অন্তর মিলবে মেট্রো। ব্লু লাইন ছাড়াও অন্যান্য যে মেট্রো পথগুলো রয়েছে শহরে, আগামী দিনে সেগুলোর ও দুই মেট্রোর ব্যবধান কমানো হবে।
পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের রেলসেতু পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপও করেছে তারা। এই সব কাজের জন্য মোট ৮৯৫ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে তত শহরবাসীর মেট্রো নির্ভরতা বাড়ছে। বাড়ছে যাত্রীর চাহিদাও। এই পরিস্থিতিতে মেট্রো পরিষেবায় গতি আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে মান্ধাতার আমলের এই মেট্রোয় রাতারাতি তা করে ফেলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন পরিকাঠামোর উন্নতি আর তা করতেই বদ্ধপরিকর রেলমন্ত্রক।
শুধু মেট্রো নয়, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা বিভাগে একটি পুরনো রেলসেতু পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। আদ্রা বিভাগের মধুকুণ্ড-দামোদর সেকশনের ৫২০ নম্বর সেতু (দামোদর সেতু) পুনরায় নির্মাণ করার জন্য ২২৩ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে রেল। তবে এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ইয়ার্ড পুনর্গঠন, সেতুর সঙ্গে যুক্ত সড়ক নির্মাণ-সহ কিছু কাজ।