২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ভরকেন্দ্র ভবানীপুর। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্য দিকে শুভেন্দু অধিকারী। গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ডেও কাঁটে কী টক্কর চলছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় রাউন্ডের পরে ভবানীপুরে এগিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর থেকে ৮৯৮ ভোটে এগিয়ে তিনি।
প্রথম রাউন্ডের গণনার পরে ভবানীপুরে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমো ১৯৯৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। পিছিয়ে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষে ১৫৫৮ ভোটে এগিয়ে যান শুভেন্দু অধিকারী। তৃতীয় রাউন্ডে আবার ঘুরল প্রাথমিক ট্রেন্ড।
যদিও সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হয়েছে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং পরে ইভিএম-এর কাউন্টিং শুরু হয়েছে। ফলে এই ট্রেন্ড একেবারেই প্রাথমিক। তবে নিঃসন্দেহে এই কেন্দ্র এ বার ভোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০১১ সালে প্রথম বার উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে ২০১১-র সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হন সুব্রত বক্সী।
এই কেন্দ্র থেকে জিতেই প্রথম বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে ২০১৬, ২০২১— দু’বারই ভবানীপুর থেকে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। এ বার সেই কেন্দ্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১-এর ভোটে যিনি মমতাকে নন্দীগ্রামে হারিয়েছিলেন।
এ বারের ভোটে একেবারে মাটি কামড়ে ভবানীপুরে পড়ে থেকেছেন মমতা। মিছিল, মিটিং থেকে পদযাত্রা, বাদ রাখেননি কিছুই। অন্যদিকে শুভেন্দুও ভবানীপুরকে পাখির চোখ করে পড়ে থেকেছেন নাম ঘোষণার পরেই। ভবানীপুরে শুভেন্দু যে দিন মনোনয়ন জমা দেন, এসেছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শাহ বলেছিলেন, ‘আমাদের শুভেন্দুদা নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম মমতার ঘরে গিয়ে তাঁকে হারাতে হবে। তাঁর রেকর্ডও আছে। গতবার মমতা সরকার তো বানাতে পেরেছিলেন, কিন্তু নন্দীগ্রামে হেরে গিয়েছিলেন। এ বার মমতা সব কেন্দ্রে হারবেন, ভবানীপুরেও হারবেন।’
এ দিন প্রাথমিক ট্রেন্ড দেখে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া, ‘এখন পর্যন্ত ১৬৫টা আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। নন্দীগ্রামে আমার লিড রয়েছে প্রায় ৭ হাজার, ভবানীপুরে প্রথম রাউন্ড ছিল মুসলিম এলাকায়, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড। আমি প্রায় ২০০০ ভোটে পিছিয়ে ছিলাম। সেকেন্ড রাউন্ড ছিল হিন্দু এলাকা, আমি ২০০০ কভার করে ২২০০ তে লিড করছি।’
যদিও তৃতীয় রাউন্ডে আবার এগিয়ে গিয়েছেন মমতা। তৃণমূল বলছে, ভবানীপুরে আবারও ঘাসফুলই উড়বে। প্রাথমিক ট্রেন্ড দেখে তৃণমূলের আত্মপ্রত্যয় ভাঙা যাবে না। প্রাথমিক ট্রেন্ডে সাপ-লুডোর খেলা চলছে ভবানীপুরে। সিঁড়ি বেয়ে এক রাউন্ডে এক প্রার্থী উঠছেন, পরের রাউন্ডে নেমে যাচ্ছেন। ট্রেন্ড বুঝতে আরও বেশ কয়েক রাউন্ড গণনা দরকার।