• জুটল না অ্যাম্বুল্যান্স, মেলেনি স্ট্রেচারও, আদিবাসী কিশোরীর দেহ কাঁধে করে শেষকৃত্যে পরিবার!
    প্রতিদিন | ০৪ মে ২০২৬
  • স্বাধীনতার ৭৭ বছর পরেও গরিব, আদিবাসী হওয়া অভিশাপ! বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) আদিবাসী তরুণীর শেষকৃত্যে জুটল না অ্যাম্বুল্যান্স, এমনকী স্ট্রেচারও। ময়নাতদন্তের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পরিবারের লোকরাই দেহ কাঁধে করে নিয়ে গেলেন। এই ঘটনা সামনে আসতেই মুখ পুড়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যবিভাগের।

    এই ঘটনা অশোকনগর জেলার বাহাদুরপুর টাউনের মুঙ্গাওয়ালি বল্কের। রবিবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে ১৫ বছরের নাবালিকার ঝলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এর পর রাতেই পরিবারের লোকেরাই স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় তাকে। অভিযোগ, রাতভর দেহ ফেলে রাখে কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকাল দশটা নাগাদ ময়নাতদন্ত হয়। যদিও কিশোরীর দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা হয়নি। এমনকী স্ট্রেচারও জোটেনি তার।

    কোনও শববাহী গাড়ি বা সরকারি যানবাহন না জোটায় মৃতদেহ রাস্তার পাশে রেখে প্রাইভেট গাড়ির চালকদের অনুনয়-বিনয় করেন পরিবারের লোকেরা। টাকাও দিতে চান। অভিযোগ, তাতেও আদিবাসী নাবালিকার দেহ গাড়িতে তুলতে চায়নি তাঁরা। এই অবস্থায় ঘণ্টা দুয়েক ধরে ৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাস্তায় পড়েছিল কিশোরীর দেহ। শেষ পর্যন্ত দেহটিকে একটি মোটা চাদরে পেঁচিয়ে কাঁধে তুলে নিয়ে হাঁটা দেন পরিবারের লোকেরা।

    মাঝপথে সাহায্য মেলে। খবর পেয়ে সমাজকর্মী আদিত্য ত্রিদেবী নিজের গাড়িতেই দেহ বহনের ব্যবস্থা করেন। এদিকে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অমানবিকতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হলে সাফাই দেন বাহাদুরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ওয়াইএস তোমর। তিনি দাবি করেন, অব্যবস্থার জন্য দায়ি পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)