ভোটের পর রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন? মামলায় হস্তক্ষেপই করল না সুপ্রিম কোর্ট
প্রতিদিন | ০৪ মে ২০২৬
রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার আশঙ্কা। তাই ভোটের ফলাফল (WB Assembly Election Result 2026) প্রকাশের পরেও বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আদৌ বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা তা নিয়ে মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলায় হস্তক্ষেপই করল না শীর্ষ আদালত। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে আদৌ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনও নির্দেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট।
‘সনাতন সংস্থা’ নামে একটি সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। আইনজীবী ভি গিরি মামলা দায়ের করেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে সোমবার মামলার শুনানি হয়। মামলাকারী জানান, রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে একুশের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কথা উল্লেখ করেন।
সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয় বলেও দাবি করা হয়। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, ভোট মিটে গেলে কমিশনের ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে। তবে দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ভোট পরবর্তী হিংসা থামাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না। মামলাকারীকে কলকাতা হাই কোর্টে এই প্রসঙ্গে আবেদন জানাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের আগেই নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, রাজ্যে আগামী ৬ মাস ৫০০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন থাকবে। সবচেয়ে বেশি জওয়ান থাকবেন কলকাতায়, ৪০ কোম্পানি। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে বারাকপুর, প্রায় ২৮ কোম্পানি বাহিনী থাকবে এখানে। এছাড়া বীরভূম, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলাতেও কুড়ির বেশি বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সবচেয়ে কম বাহিনী থাকবে কালিম্পংয়ে, মাত্র ১ কোম্পানি। এছাড়া জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা ও বনগাঁয় থাকবে ৫ কোম্পানি বাহিনী। ভোটের ফলপ্রকাশের পর রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে রাজনৈতিক অশান্তির খবর আশঙ্কা করছে কমিশন। তা রুখতেই এবার নির্বাচনের ৬ মাস পরও আধাসেনা রাখা হবে গোটা রাজ্যে। কমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে অন্তত তেমনটাই জানানো হয়েছে।