মাঝে তিনি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক পরামর্শদাতার ভূমিকা ছেড়ে নিজে রাজনীতিক হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সফল হননি। পুরনো পেশায় ফের সাফল্যের শীর্ষে পিকে। রাজনীতির ময়দানে প্রথম চেষ্টায় মুখ থুবড়ে পড়েছেন তিনি। কিন্তু নিজের মতো বেহাল দশা তিনি হতে দিলেন না থলপতি বিজয়ের। রাজনীতিতে প্রথমবার পা রেখে বিজয় যে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে গেলেন, সেটার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে এই প্রশান্ত কিশোরেরও।
প্রশান্ত কিশোর, তাঁর যাবতীয় পরিচিত রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসাবেই। কিন্তু ২০২১ সালে বাংলায় তৃণমূলকে জেতানোর পর তিনি সেই কাজটা ছেড়ে বিহারে জন সুরাজ শুরু করেন। শুরুর দিকে তাঁর জনসভা-মিছিলে ব্যাপক ভিড় হচ্ছিল। সোশাল মিডিয়াতেও চরম জনপ্রিয়তা পান তিনি। কিন্তু ২০২৫ বিহার বিধানসভায় মুখ থুবড়ে পড়ে পিকের সেই দল। ক্ষুরধার রাজনৈতিক মস্তিস্কের প্রশান্ত হয়তো বুঝে যান, মাঠে নেমে রাজনীতি তাঁর কাজ নয়। বরং পরামর্শ দাতা হিসাবেই বেশি মানায় তাঁকে।
গত বছরই ফের থলপতি বিজয়ের পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ শুরু করে দেন। সেসময় বিজয় সবে রাজনৈতিক দল শুরু করেছেন। চমকপ্রদভাবে এক বছরের মধ্যে তিনি যে তামিলনাড়ুর মসনদে বসার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে গেলেন, সেটার নেপথ্যে রয়েছে এই পিকের ভূমিকাও। গত একবছর লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে নীরবে কাজ করে গিয়েছেন তিনি। নিজের রাজনৈতিক সফরে যে যে ভুলগুলি প্রশান্ত নিজে করেছিলেন, সেগুলি যাতে বিজয় না করেন, সেটা নিশ্চিত করে দেন প্রশান্ত। তিনি বিজয়কে বুঝিয়ে দেন, শুধু বড়বড় জনসভা করলে হবে না, সংগঠন মজবুত করতে হবে। দলের আদর্শগত জায়গা তৈরি করতে হবে। মানুষের কাছে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে তাঁর রাজনৈতিক ভিশনের। সেই কাজগুলি বিজয় সফলভাবে করেছেন। এবং আজ সাফল্যের শিখরে তিনি। যা পরিস্থিতি তাতে মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে তিনিই বসবেন। ২৩০ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিজয় এগিয়ে ১০৫ আসনে।
প্রশান্ত অবশ্য এক বছর আগেই বলে দিয়েছিলেন, বিজয়কে তিনি জেতাবেন। সেই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই রসিকতা করে পিকে বলে দেন, “এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিহারী হলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এরপর বিজয়কে জিতিয়ে দিলে আমিই তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিহারী হয়ে যাবে।” সেই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। এবার দেখার এটাই, পিকে কি জনপ্রিয়তাই মাহিকে টপকাতে পারবেন?