বিজয় ঝড়ে ‘পুরনো বন্ধু’কে ভুলছে কংগ্রেস! থলপতির সঙ্গে জোটের তোড়জোড় হাত শিবিরে
প্রতিদিন | ০৪ মে ২০২৬
তামিলভূমে ঝড় তুলেছেন থলপতি বিজয়। প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দিকে এগিয়ে চলেছেন সুপারস্টার। বিজয়ের এমন জনপ্রিয়তা দেখে এবার তাঁর হাত ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই টিভিকে সুপ্রিমোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছে হাত শিবির। উল্লেখ্য, ভোটের আগে থেকেই কংগ্রেসের তরফ থেকে বিজয়কে নিয়ে বেশ আগ্রহ দেখানো হয়েছিল। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দক্ষিণী সুপারস্টারের বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী জোট হয়নি দুপক্ষে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী ডিএমকের হাত ধরেই ভোট ময়দানে নামে কংগ্রেস।
আসলে বেশ কিছুদিন ধরেই ডিএমকে নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতারা। ক্ষোভের মূল কারণ, অসম্মান। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস এবং ডিএমকের জোট যতই মসৃণ হোক, রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসকে সেভাবে গুরুত্ব দেয় না ডিএমকে।এমনকী, সে রাজ্যে ডিএমকে কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় থাকলেও সরকারে কংগ্রেসের কোনও অংশিদারিত্ব নেই। স্থানীয় পুরসভা, বিভিন্ন উন্নয়ন বোর্ডেও কংগ্রেস নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমন বিবিধ অভিযোগ তুলে ডিএমকের সঙ্গ ছাড়ার বার্তা দিচ্ছিলেন অনেক নেতা।
তাই ভোটের আগেই কংগ্রেসের একটা অংশ থলপতি বিজয়ের টিভিকের সঙ্গে জোট করতে চাইছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা নিশ্চিত ছিলেন না। এক্সিট পোলের পর থেকে ছবিটা পালটাতে থাকে। সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, প্রায় একশোর কাছাকাছি আসন পেতে পারে প্রথমবার ভোটের ময়দানে নামা দলটি। তারপর থেকেই তামিলভূমে একেবারে ‘হটকেক’ হয়ে উঠেছেন বিজয় এবং তাঁর দল। সেই সুযোগেই বিজয়ের ‘কাছের লোক’ হয়ে উঠতে চাইছে কংগ্রেস। বিজয়কে সমর্থন করলে সরকারেও পদ পেতে পারেন হাত শিবিরের নেতারা।
কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল সাফ জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর ফলাফল দেখে তাঁরা চমকে গিয়েছেন। তাই দেরি না করে তামিল রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে কংগ্রেসকে। বিজয়কে বাহবা জানাতেও ভোলেননি তিনি। ভোটের আগে কেন বিজয়ের সঙ্গে জোট করল না কংগ্রেস, সেই প্রশ্নের জবাব অবশ্য এড়িয়ে গিয়েছেন বেণুগোপাল। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিজয়ের দল এগিয়ে রয়েছে ১০৯টি আসনে। কংগ্রেসও পাঁচটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের সঙ্গী এমকে স্ট্যালিনের দলকে ছেড়ে বিজয়ের হাত ধরতে পারে হাত শিবির, এমন সম্ভাবনা প্রবল। ইতিমধ্যেই বিজয়ের মন জয়ের চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস। একের পর এক কংগ্রেস নেতা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন থলপতির সাফল্যে।