প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন মোদি, সেই ঝাড়গ্রামে তরতর করে এগোচ্ছে বিজেপি
প্রতিদিন | ০৪ মে ২০২৬
বঙ্গ রাজনীতিতে পরিবর্তনের বড়সড় ইঙ্গিত। ১৫ বছর পর ফের রংবদলের পথে রাজ্য। বিজেপি কার্যত ঝড় তুলে প্রথমবার ক্ষমতায় আসতে চলেছে। আর এই পরিস্থিতিতে নতুন করে চর্চায় প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি পর্ব। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে ঝাড়গ্রামের এক অখ্যাত দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন মোদি (Narendra Modi), খাইয়েছিলেন উপস্থিত জনতাকে। সেই ঝাড়গ্রামের মাটিতে ঘাসফুলের অস্তিত্ব একেবারে শেষের মুখে। জেলার চারটি আসনেই বড় ব্যবধানে জয়ের পথে বিজেপি প্রার্থীরা। সপ্তম রাউন্ড ভোট শেষে ঝাড়গ্রামের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাহু। বলছেন, সবটাই মোদি-ম্যাজিক।
এই প্রথম বঙ্গভোট নতুন এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে – ঝালমুড়ি রাজনীতি। বাঙালির ঘরে ঘরে জনপ্রিয় এই খাবারও যে ভোটপ্রচারের অংশ হয়ে উঠতে পারে, কে কবে ভেবেছিল? সেই রাস্তা তৈরি হয়েছে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির ঝাড়গ্রাম সফর। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সেখানে জনসভা করে ফেরার পথে রাস্তার ধারে একটি ঝালমুড়ির দোকান থেকে কিনে মুড়ি খান। সেই থেকেই ঝালমুড়ি হয়ে গেল বঙ্গ রাজনীতির এক অঙ্গ। মোদির সেই জনসভার পালটা শেষবেলায় সূচি বদলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝাড়গ্রামে প্রচার করে এসেছিলেন। ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে মোদিকে অবশ্য কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি। প্রধানমন্ত্রীও পালটা বলেছিলেন, ‘‘ঝালমুড়ি খেলাম আমি আর ঝাল লাগল ওদের (তৃণমূল)।”
ঝাল না লাগুক, ঘাসফুল শিবিরের সংগঠন যে ‘ঝাল’-এর ছ্যাঁকায় ছিটকে পড়েছে, তার প্রমাণ এখানকার ফলাফল। ঝাড়গ্রামের চারটি আসনেই তৃণমূল প্রার্থীরা পিছিয়ে গিয়েছেন। এমনকী বিনপুর আসন থেকে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাও পিছিয়ে অনেক ভোটে। আর বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা মোদির সেই ঝালমুড়ি খাওয়া ছবি নিয়ে উল্লাস করছেন। শুধু জেলা বা রাজ্যেই নয়, বঙ্গে বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতে দিল্লিতেও তার রেশ পৌঁছে গিয়েছে। দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরের সামনে ঝালমুড়ির বিশাল পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বলতেই হচ্ছে, ঝালমুড়ির কী মহিমা!