• বাঁকুড়ায় তৃণমূল কার্যালয়ের চালে বিজেপির পতাকা, দিকে দিকে ‘দখলের হামলা’ পদ্মশিবিরের
    প্রতিদিন | ০৪ মে ২০২৬
  • ভোটগণনার মাঝেই রাজ্যের নানা প্রান্তে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। বাঁকুড়ার কোতুলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে চালে উঠে পতাকা লাগানোর অভিযোগ। বরানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের কার্যালয় দখলের অভিযোগ। জামালপুরে শাসক শিবিরের কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় গেরুয়া শিবির। যদিও অভিযোগ নস্যাৎ করেছে বিজেপি।

    সোমবার দুপুরে কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের খিরি গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গণনার সপ্তম রাউন্ড শেষে কোতুলপুরে বিজেপি প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অভিযোগ, এরপরই একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক খিরি গ্রামের তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। কার্যালয়ের দেওয়ালে থাকা তৃণমূলের লেখা মুছে সেখানে বিজেপির প্রতীক আঁকা হয় এবং ভবনের উপরে গেরুয়া পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দখলের পরই আবির খেলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁদের একাংশকে।

    এদিকে, তখনও বিষ্ণুপুরের কেজি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে গণনা প্রক্রিয়া চলছিল। ফলে ফল ঘোষণার আগেই এই ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, “পরিকল্পিতভাবে গণনা চলাকালীনই দখলদারি চালানো হচ্ছে। এর ফলে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হতে পারে।” যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি, “মানুষের রায় আমাদের পক্ষে যাচ্ছে বলেই কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে দখলদারির কোনও সম্পর্ক নেই।” ঘটনার জেরে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা রয়েইছে। উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দখলদারির অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমন ঘটনা সামনে এসেছে। তবে গণনা শেষ হওয়ার আগেই কোতুলপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)