মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় কেন এগিয়ে বিজেপি? ব্যাখ্যা দিলেন শুভেন্দু
প্রতিদিন | ০৪ মে ২০২৬
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম ভোট একতরফাভাবে তৃণমূল কংগ্রেস পায়নি, মুসলিম ভোটে ভাঙন ধরেছে, সেই কারণেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিক এলাকাতেও ভালো ফল করছে বিজেপি। নির্বাচনে জয়ের আগে প্রাথমিক ফলাফলের ট্রেন্ড দেখে এই ব্যাখ্যাই দিলেন ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে বিজেপি।
রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০০-র কাছাকাছি আসনে এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। শুভেন্দু নিজে নন্দীগ্রাম আসন থেকে জিতছেন। ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এই দুই আসন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, মালদহ , মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিক জেলায় বিজেপির ফল মোটের উপর ভালোই হচ্ছে। মালদহে ১২টির মধ্যে ৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। আর মুর্শিদাবাদে ২২টির মধ্যে ৮টিতে এগিয়ে রয়েছে তারা। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরে ৯ টি আসনের মধ্যে ৪টি-তে এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে রাজ্যের হিন্দু ভোট এককাট্টা হয়েছে। অন্যদিকে মুসলিম ভোট ভাগ হয়েছে। একতরফাভাবে তৃণমূল সেই ভোট পায়নি। মুসলিমরা অনেক জায়গায় মুসলিম সমর্থক পার্টিকে ভোট দিয়েছেন। কিছু এলাকায় বিজেপিও মুসলিম ভোট পেয়েছে। নন্দীগ্রামের মুসলিম অধ্যুষিক বুথে বিজেপি ভালো ভোট পেয়েছে। এই সব বুথে এত ভোট আশা করেননি তিনি নিজেও।
উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ- সর্বত্রই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। এই নিয়ে শুভেন্দু জানিয়েছে, মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কে ভাঙনের জেরেই মুসলিম-অধ্যুষিক জেলাতেও একের পর এক ভালো ফল করছে বিজেপি। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে নতুন দল গড়েন হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর ও নওদা থেকে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। ট্রেন্ড অনুযায়ী, এই দুটি আসনেই তিনি এগিয়ে রয়েছেন। গত নির্বাচনে এই এলাকায় মুসলিম ভোট এককাট্টাভাবে তৃণমূলে ছিল। কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচনে তাতে ভাঙন ধরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে বাম, কংগ্রেসেও একাধিক মুসলিম ভোট পড়েছে বলে অনুমান।