ভোটের ফলাফল বুঝতে পেরে গণনাকেন্দ্র ছাড়ার সময় বিপাকে পড়লেন বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। তাঁর উদ্দেশে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। এমনকী তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা এবং চটি। যদিও গোটা সময়টাতেই রাজকে সংযত থাকতে দেখা গিয়েছে। হাসিমুখে তিনি গণনাকেন্দ্র ছেড়েছেন। অন্যদিকে কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে।
প্রথম থেকে বারাকপুর আসনে রাজের পিছিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। সপ্তম রাউন্ডের পর দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর থেকে ৯,৫৮২ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন রাজ। এরপরই গণনাকেন্দ্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সম্প্রতি রাজের গণনাকেন্দ্র ছাড়ার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তাঁকে দলের কর্মী সমর্থক, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ, সেই সময় রাজকে লক্ষ্য করে কাদা ছিটানো হয়। যদিও দলের কর্মীরা তাঁকে আড়াল করে গণনাকেন্দ্রের বাইরে নিয়ে যান। যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এবিষয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাননি রাজ।
২০২১ সালে টলিউডের প্রথম সারির পরিচালক রাজ চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। সেই বছরই বিধানসভা নির্বাচনে বারাকপুর থেকে তাঁকে প্রার্থী করে তৃণমূল। ভোটে জিতেও যান তিনি। ছাব্বিশেও বারাকপুর থেকে তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছিল দল। কিন্তু ট্রেন্ড অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি ভোটে বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর থেকে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে প্রায় ২০০ আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে তাঁরা। এই আবহে রাজ্যের একাধিক জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল, আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও তৃণমূলের নেতাদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। হেস্টিংসের কাউন্টিং সেন্টারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছলে তাঁকে ঘিরেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিজেপি কর্মীরা। ওঠে চোর চোর স্লোগান। তাই বলা বাহুল্য, রাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের পতন হতে চলেছে।