এবার পরিবর্তনের ডাকেই সায় দিল বাংলার জনমত। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র গেরুয়া ঝড়। আর সেই ঝড়ে মন্ত্রীদের বাধা আসনও এবার হাতছাড়া হওয়ার পথে! রাজ্যের প্রায় ১৪ জন মন্ত্রী খোয়াতে পারেন নিজের কেন্দ্র। গণনার ট্রেন্ড যা বলছে,বাংলার মসনদে এবার মোদি-ম্যাজিকেই ফুটল পদ্ম। আর সেই ম্যাজিকে কার্যত ছু-মন্তর হয়ে গেলেন তৃণমূল সরকার। বিজেপির শাসনে মন্ত্রিত্ব যে গেল তা হয়তো টের পেয়ে গিয়েছেন এতক্ষণে। অন্তত তৃণমূলের হালে পানি আনতে হলে বিধায়কপদ টুকু টিকিয়ে রাখাই হয়ে দাঁড়িয়েছে চ্যালেঞ্জ। পদ্মশিবিরের ডবল সেঞ্চুরির সুনামিতে কার্যত ধুয়ে যেতে বসেছে বাংলার ১৪ মন্ত্রীর নাম। সেই তালিকায় কারা আছেন?
বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ব্যলটের ফল যা বলছে, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বিধাননগর কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছেন। দমদম কেন্দ্র থেকে পিছিয়ে বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। স্বাস্থ্য ও অর্থ দফতরের বিদায়ী প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দমদম উত্তর কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ণ গুহ দিনহাটা কেন্দ্র থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। বিদায়ী সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া সবং কেন্দ্র থেকে ও ক্রেতাসুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতা শালবনিতে পিছিয়ে রয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, বিধায়কের দৌড়ে পিছিয়ে রয়েছেন আরও অনেক মন্ত্রী। বিনপুর কেন্দ্র থেকে পিছিয়ে বিদায়ী বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। চন্দননগর কেন্দ্র থেকে পিছিয়ে কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মোথাবাড়ি কেন্দ্র থেকে পিছিয়ে। বিদায়ী গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী মন্তেশ্বর কেন্দ্র থেকে ও বিদায়ী পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্র থেকে পিছিয়ে। বিদায়ী জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী পুলক রায়, বিদায়ী স্কুলশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মন ও পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীও পিছিয়ে রয়েছেন।
তবে ভরাডুবিতে রণতরী ভাসিয়ে রেখেছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী। বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে এগিয়ে কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ঘাসফুল শিবিরের পোড়খাওয়া রাজনীতিকদের তালিকায় অন্যতম নাম। অন্যদিকে কলকাতা বন্দর থেকেও ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।