দেড় বছর আগে হারিয়েছিলেন ৮ হাজার ভোটে! সেই সজলের কাছেই হার তৃণমূলের ‘গ্ল্যামার’ সায়ন্তিকার
আনন্দবাজার | ০৪ মে ২০২৬
দেড় বছর আগে যাঁকে হারিয়ে রাজনীতিতে প্রথম সাফল্যের স্বাদ পেয়েছিলেন, সেই বরাহনগর কেন্দ্রে বিজেপির সেই প্রার্থীর কাছেই বিপুল ব্যবধানে হারলেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রুপোলি পর্দার মাঝারি মানের কেরিয়ার ছেড়ে পাঁচ বছর আগে সায়ন্তিকা যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। সেই বছর, অর্থাৎ ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে দলের টিকিটও পান বাঁকুড়া কেন্দ্রে লড়ার। হেরে যান বিজেপি প্রার্থীর কাছে। তবে হেরে গেলেও রাজনীতি ছাড়েননি সায়ন্তিকা। ফিরে যাননি অভিনয়ে। দলের কাজের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে জড়িয়ে পড়েন। এক সময় পান তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক পদ।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ফের রাজনৈতিক ভাগ্যের চাকা ঘোরে সায়ন্তিকার। সে বার নির্বাচনের ঠিক আগে বরাহনগর কেন্দ্রের তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় যোগ দেন বিজেপিতে। ওই কেন্দ্রের শূন্য আসনের উপনির্বাচনে ফের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান সায়ন্তিকা। সে বার তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন সজল ঘোষ। সজলকে হারিয়ে সেই প্রথম সাফল্য পান সায়ন্তিকা।
এ বারের ভোটে সেই একই কেন্দ্রে সজলের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ের জন্য নেতৃত্ব তাঁকে বেছেছিলেন। যদিও প্রচারের শুরুতেই সায়ন্তিকা স্বীকার করে নেন, বিধায়ক পদে এই দেড় বছর সব কাজ করা সম্ভব হয়নি। আগামী পাঁচ বছরে সব কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন। এলাকায় পদযাত্রা, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাঁদের প্রতিক্রিয়া শোনা— অনেক কিছুই করেছেন। তাঁর হয়ে প্রচার করেছেন সাংসদ দেবও। তবে এত কিছুর পরেও শেষরক্ষা হল না। দেড় বছর আগে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সজল ঘোষকে হারিয়েছিলেন ৮০১৮ ভোটে। এ বার গেরুয়া ঝড়ের দাপটে সেই সজলের কাছেই হারলেন ১৬৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে।
এ বার কী করবেন সায়ন্তিকা, সেটা এখনই বলা মুশকিল। হয়তো নেতৃত্ব তাঁকে সংগঠনের কাজে লাগাবেন। এলাকায় এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে, হয়তো তাঁকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বিজেপি। সবই সম্ভাবনার কথা। তবে এ বার বিধানসভা ভোটের আগে এক সাক্ষাৎকারে সায়ন্তিকা নিজেই জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দেন। সায়ন্তিকা বলেছিলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি কোনও নামই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উনি এত স্নেহ করেন, তাই মনে হয়েছিল রাজনীতিতে যোগ দিলে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই কাজ করব।” ৪ তারিখ ভোটের এই ফলের পরে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া পেতে সায়ন্তিকার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এ বার ভোটপ্রচারের সময়ে এক দিন মুখোমুখি হন সায়ন্তিকা ও বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পথে নামতে হয় পুলিশকে। ফ্লেক্স-হোর্ডিংকে ঘিরে সেই বচসার সূত্রপাত হয়েছিল। মাইক হাতে তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায় বিজেপি প্রার্থী সজলকে। ‘সায়ন্তিকা গো ব্যাক’, ‘চোর এমএলএ গো ব্যাক’ ইত্যাদি স্লোগান তুলতে থাকেন সজল-অনুগামীরা। এতে আরও ঘোরালো হয় পরিস্থিতি। বাগ্যুদ্ধ পরিণত হয়েছিল হাতাহাতিতে। সজল সেই দিন বলেছিলেন, ‘‘বরাহনগর পাল্টে গিয়েছে। এটা ২০২১ সাল নয়। মনে রাখতে হবে, এটা ২০২৬। নতুন ভারত যেমন ঠিক জায়গায় কাউন্টার স্ট্রাইক করে, প্রয়োজন হলে বরাহনগরে আমরাও তাই করব।”