• বীরভূমে শক্তি বাড়াল পদ্মশিবির, আগে জেতা ৬টি আসন হারতে চলেছে তৃণমূল
    এই সময় | ০৫ মে ২০২৬
  • গত ১৫ বছর তৃণমূলের গড় ছিল বীরভূম। খাসতালুক ছিল অনুব্রত মণ্ডলের। ‘পরিবর্তন’-এর হাওয়ায় সেই বীরভূমে এ বার ফুটছে পদ্মফুল। যা হোক করে গড় বাঁচানোর লড়াই লড়ছে তৃণমূল। অন্তত বিকেল পর্যন্ত ট্রেন্ড এমনই।

    বীরভূমে ১১টি আসন। কোথায় ৬ রাউন্ড গণনা হয়েছে, কোথাও ১২ রাউন্ড। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ৫টি কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। হাসন, নলহাটি, মুরারই, বোলপুর এবং লাভপুর। বাকি ৭টি আসনে কদম কদম এগোচ্ছে বিজেপি।

    দুবরাজপুরে গতবারই পদ্ম ফুটিয়েছিল বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বারেও সেখানে ১৩ রাউন্ড শেষে এগিয়ে রয়েছেন অনুপকুমার সাহা। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬৬,১৮৬। তৃণমূলের নরেশচন্দ্র বাউরি পেয়েছেন ৪২,৭১৭ ভোট।

    একুশের ভোটে সিউড়িতে উড়েছিল সবুজ আবির। জিতেছিলেন বিকাশ রায় চৌধুরী। এ বার উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তবে, এই আসনে এগিয়ে বিজেপির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ৭ রাউন্ডের গণনা শেষে ৪০,৯৪৭ ভোট পেয়েছেন তিনি। তৃণমূল প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ২৬,৯৫৯। প্রায় ১৩,৯৮৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।

    সাঁইথিয়া তৃণমূলের দখলে ছিল। বিধায়ক ছিলেন নীলাবতী সাহা। এ বারেও তিনিই তৃণমূলের প্রার্থী। ৬ রাউন্ডের গণনা শেষে ২৬,৭২০টি ভোট পেয়েছেন তিনি। তবে ৪,৫৭৭ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণকান্ত সাহা। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৩১,২৯৭।

    রামপুরহাটও তৃণমূলের গড় ছিল। একুশের নির্বাচনে জিতেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বারে ১২ রাউন্ডের গণনা শেষে ১৭,১২০ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির ধ্রুব সাহা। এখনও পর্যন্ত তিনি ৬৩,৮১৫ ভোট পেয়েছেন।

    নলহাটির রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং তৃণমূলের লড়াকু সৈনিক। গত বারে জিতেছিলেন। এ বারেও এগিয়ে তিনি। ৬ রাউন্ডের গণনা শেষে ২৯,৭৪১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। অনেকটাই পিছিয়ে বিজেপি প্রার্থী অনিলকুমার সিং। তিনি পেয়েছেন ১৭,২৬১ ভোট। প্রায় ১২,৪৮০ ভোটে পিছিয়ে তিনি।

    ২০১১-র পর থেকে ময়ূরেশ্বর বরাবর তৃণমূলের দখলে ছিল। গত নির্বাচনেও এখানে জিতেছিলেন তৃণমূলের অভিজিৎ রায়। এ বারেও জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থী তিনি। কিন্তু, তাঁকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন বিজেপির দুধকুমার মণ্ডল। ১২ রাউন্ড গণনা শেষে তিনি পেয়েছেন ৬৪,১২১ ভোট। ৯৪৬৫ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন অভিজিৎ। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫৪,৬৫৬।

    বোলপুরে বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূলের চন্দ্রনাথ সিনহা। ১০ রাউন্ডের গণনা শেষে তিনি ২৮,৭৮৯ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। পেয়েছেন ৬৪,৯৭৬ ভোট। এটা তৃণমূলের গড়। জেলার পার্টি অফিসও এখানে। বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এখনও পর্যন্ত ৩৬,১৮৭ ভোট পেয়েছেন।

    নানুর বরাবরই তৃণমূলের গড়। এ বার তা হাতছাড়া হতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। গত নির্বাচনে তৃণমূল থেকে জিতে বিধা.ক হয়েছিলেন বিধান চন্দ্র মাঝি। এ বারের নির্বাচনে ২০২৩ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। ৮ রাউন্ড শেষে এগিয়ে রয়েছেন খোকন দাস। ৪০,৪০৩ ভোট পেয়েছেন তিনি।

    লাভপুরে গত বারের বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা এ বারেও এগিয়ে। ১৩ রাউন্ডের গণনা শেষে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৭৩,৪০৫। তবে তাঁর ঘাড়ের কাছেই নিঃশ্বাস ফেলছেন বিজেপির দেবাশিস ওঝা। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৭০,২৪৫। মাত্র ৩,১৬০ ভোটের ব্যবধান যে কোনও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

  • Link to this news (এই সময়)